রাবেয়া বেবী
শিশু যৌন নির্যাতন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টক্ষেত্রে বিজ্ঞজন। তারা বলছেন, শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে এখনই যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করা গেলে দেশের শিশুরা যৌন নির্যাতন জনিত হুমকির মুখে পড়বে। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম শিশুদের নিয়ে কাজ করে এমন ২৬৯টি এনজিও’র একটি জাতীয় নেটওয়ার্ক বিএসএএফ। শিশু অধিকার ফোরামের তথ্যমতে, চলতি বছর জানুয়ারি মাসে ৫২ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। এ সময় ৪ জন শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। গণধর্ষণের শিকার হয় ৪ জন শিশু। অর্থাত্ শুধু শিশু ধর্ষণেরই শিকার হচ্ছে না ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ধর্ষকরা প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে কোমলমতি শিশুদের।
১৫টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে বিএসএএফ ‘স্টেট অফ চাইল্ড রাইটস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। এই প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে শিশুদের প্রতি সহিংসতার হার বেড়েছে ১৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ। প্রতিবেদন মতে, গত বছর মোট ৪ হাজার ৫৬৬টি শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে যাদের মধ্যে ২ হাজার ৩৫৪টি শিশু অপমৃত্যুর শিকার এবং ৮১২টি শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। গড়ে প্রতিমাসে ৩৮০টি শিশু বিভিন্ন রকমের সহিংসতার শিকার হয়েছে।
বিএসএএফ পরিচালক আবদুছ সহিদ মাহমুদ বলেন, উচ্চ, মধ্য ও নিম্নবিত্ত সকলশ্রেণির শিশু যৌন নির্যাতনসহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। হতদরিদ্র মানুষের সন্তান ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার হচ্ছে। শিশুরা দুর্বল, খুব অল্পতেই প্রলোভিত হয়। আবার ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের যৌন নির্যাতন করা হয়। অপেক্ষাকৃত প্রভাবশালী মহল দরিদ্রশ্রেণির শিশু নির্যাতন করে। অপরদিকে মধ্যবিত্ত, উচ্চমধ্যবিত্ত শিশুরা পাড়াপ্রতিবেশী, নিকট আত্মীয় কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। কিন্তু এই ঘটনাগুলো প্রকাশ পাচ্ছে না সামাজিক মর্যাদাহানির ভয়ে। তিনি বলেন, এসব ঘটনা বৃদ্ধির প্রধান কারণ বিচারহীনতা।
শিশুদের প্রতি সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়াকে বিচারহীনতা এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণ বলে মনে করেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। ইউএনডিপি বাংলাদেশের হিউম্যান রাইটস প্রোগ্রামের চিফ টেকনিক্যাল এডভাইজার শর্মিলা রাসুল বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন বিশ্বের জন্য চমত্কার উদাহরণ। কিন্তু দেশের শিশুদের প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি দেশের উন্নয়ন এবং অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলতে পারে।
