ক্যাম্পাসের বন্ধুত্ব

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২১, ২০:৩৯

 

বন্ধু! ছোট এ শব্দের মধ্যে যেন পৃথিবীর সব নির্ভরতা মিশে আছে। বন্ধু মানে দুটি দেহের একটি প্রাণ; আত্মার কাছাকাছি বসবাস। আর বন্ধুত্ব মানেই জীবনের সবুজতম সম্পর্ক। ভালোবাসার অভিন্ন সত্তার নাম এই বন্ধুত্ব। বন্ধুত্ব সব প্রতিবন্ধকতাকে ছাপিয়ে এগিয়ে চলে স্বীয় গন্তব্যে। কিশোর থেকে বৃদ্ধ সবার মধ্যেই রয়েছে বন্ধুত্বের কদর। প্রতিবছর আগস্ট মাসের প্রথম রবিবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো আমাদের দেশেও পালন করা হয়ে থাকে ‘বিশ্ব বন্ধু দিবস’। তবে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধুত্ব মানেই অদ্ভুত সব গল্প। প্রাণখুলে হাসি-আড্ডা, খেলাধুলা আর বিভিন্ন তর্কবিতর্ক। আর সেই আড্ডায় মেতে উঠে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ। ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মানেই এক অন্যরকম ভালোলাগা।

জীবনে চলার পথে সবচেয়ে আনন্দঘন বন্ধুত্বের  দেখা মেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনে। আড্ডা থেকে শুরু হয় এই বন্ধুত্ব, শুরু হয় স্বপ্নদেখা, শুরু হয় পথচলা। ক্যাম্পাস জীবন যেন বন্ধুত্ব, আড্ডা ও ভালোবাসার আড্ডায় ঘেরা। বন্ধুত্ব বিষয়টি আমাদের পরবর্তী জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আড্ডা, খুনশুটি, গল্প আর গানে যেন ক্যাম্পাসে মেতে থাকে এই বন্ধুত্ব নামক বাঁধনে বাঁধা কিছু অপার সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণী।

উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে আসা, ভিন্ন মনমানসিকতা, ভিন্ন সংস্কৃতি আর ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের মানুষ এক হয়ে যায় ক্যাম্পাসের বন্ধুত্বে। সম্ভবত এখানেই ক্যাম্পাসের বন্ধুত্বের সবচেয়ে বড় সার্থকতা। এই বন্ধুত্ব মানুষকে জাতি-ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠতে শেখায়, শেখায় সহিষ্ণুতা। ক্যাম্পাস প্রবেশ থেকে শুরু। সেই থেকে নিজ বিভাগে, প্রথম দিন ক্লাসে পাশের সিটে বসা থেকে বন্ধুত্ব। একে একে ক্লাসের সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, ক্যাম্পাসে হাঁটাচলা থেকে এলাকার মানুষ কিংবা বন্ধু থেকে অন্য বন্ধুর সঙ্গে পরিচয়। এভাবেই গড়ে উঠে একটি একটি বন্ধু বৃত্ত। আর জমে উঠে ক্যাম্পাস আড্ডা। ক্যাম্পাসের বন্ধুদের আড্ডাতেই বেঁচে থাকে তারুণ্যের প্রাণ। এভাবেই কেটে যায় ক্যাম্পাস জীবন। তবে ক্যাম্পাস জীবনে হলের বন্ধুরা কিংবা রাজনীতিক বন্ধুরাই আপন হয়ে উঠে। আর বিভাগের বন্ধুদের বলা হয় শিট আর সাজেশনের বন্ধু। একেক বন্ধুত্বের একেক ধরনও বটে। কেউ কেউ নিজেরাই সার্কেল করে নেয়। আবার কেউ-বা সার্কেল খুঁজে বেড়ায়। ক্যাম্পাস বন্ধু, আড্ডা ছাড়া যেন শিক্ষা জীবনের ইতিই টানা যায় না। আর এই ক্যাম্পাসের বন্ধুরাই জীবনের পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ক্যাম্পাসের দিনগুলো যেন বন্ধু ছাড়া কেবল এক নির্জন ভূমি ছাড়া আর কিছুই না। অঞ্চল, সংস্কৃতি, জাতি, ধর্মকে উপেক্ষা করে বাঁচার নামই তো বন্ধুত্ব। বন্ধু মানে কিছু স্বপ্নের ভাগাভাগি, বন্ধু মানে ঝগড়ার পর কাঁধে কাঁধ রাখা। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বন্ধুত্বটা কারো কাছে অনেক ভারী আর কারো কাছে ভরসার শব্দ। বন্ধু ছাড়া ক্যাম্পাস যেন মরুভূমি। প্রয়োজনে এরা অবতীর্ণ হয় মা, বাবা ভাইয়ের ভূমিকায়। ক্যাম্পাসের বন্ধুদের মধ্যে থাকে আত্মার অভিন্নতা। বন্ধু ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কল্পনায়ও ভাবতেই পারে না অনেকে। তবে করোনাকালীন দীর্ঘ ছুটিতে ক্যাম্পাসের বন্ধুত্ব এখন সক্রিয় অনলাইনে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই গড়ে উঠেছে সম্পর্ক। ম্যাসেঞ্জার, জুম, হোয়াইটএপে প্রতিনিয়তই একে অন্যের স্পর্শে রয়েছেন। তবে ক্যাম্পাসের বন্ধুত্ব আর অনলাইন সম্পর্কের ফারাক তো থাকবেই। বলা যায়, নিয়মিত যোগাযোগের কারণে ভালো বন্ধুর চেয়ে ক্যাম্পাসে গড়ে ওঠা বন্ধুর সংখ্যাই বেশি। সর্বোপরি ক্যাম্পাসের সবার বন্ধুত্ব অটুট থাকুক। সবার বন্ধুরা ভালো থাকুক। বন্ধুত্বের বন্ধন আরো সুদৃঢ় হোক। প্রতিটি দিনই বন্ধুত্বের বাঁধন থাকুক অটুট। ভালো থাকুক বন্ধুত্ব।