কতবার সম্পাদকীয় লিখেছেন মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে, সেই সড়ক দুর্ঘটনাই কেড়ে নিল তাঁর শিশুকন্যাকে! সাংবাদিক ফাইজুল ইসলামের ভাগ্যের এমনই নির্মম পরিহাস। পিতার কাঁধে যখন সন্তানের লাশ ওঠে, এ বোঝাও হয়তো বহনযোগ্য—তবে পৃথিবীতে এর চেয়ে ভারী বোঝা আর কী হতে পারে? আত্মজার লাশ বহনকারী পিতার প্রতিটি পদক্ষেপ যেন একেকটি কষ্টের মাইলফলক। এমন এক মৃত্যুতে সমবেদনার কোনো ভাষা আমার জানা নেই। যে মৃত্যুতে আকাশের তারারাও নিশ্চয়ই কেঁদে উঠেছিল। চাঁদের রুপালি আভাও ম্লান হয়ে গিয়েছিল। এ মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। বলছি, উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া শিশু ফাইজা তাহসিনা সূচি (১১) সড়কে খুন হওয়া প্রসঙ্গে। গত মঙ্গলবার বাবার হাত ধরে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের ১০ নম্বর ব্রিজের সড়ক পার হচ্ছিল সূচি। তখন বেপরোয়া মাইক্রোবাস পিতার সামনে মেয়েকে পিষে চলে যায়। দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে অত্যন্ত স্পষ্ট যে, সূচির মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা নয়। সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড। আমি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের ক্ষমা করা যায় না, ফাইজার খুনিদের ক্ষমা নেই।
মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ
সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া, গাজীপুর
