অসত্ ব্যবসায়ীরা সুবিধা পাবেন না :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৫১

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, অসত্ ব্যবসায়ীরা আমার কাছ থেকে কোনো সুবিধা পাবে না। প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সবধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উইন উইন সিচুয়েশন থাকবে। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা রাজস্ব বোর্ডের ওপরে ট্যাক্স টার্গেট বসিয়ে দেবো না। তারা কি পরিমাণে কর আদায় করবে, সেটা আমাদের জানাবে। কর হার না বাড়িয়ে করের আওতায় বাড়ানো হবে। ৪৯২টি উপজেলায় তাদের অফিস হবে। প্রতিটি উপজেলা থেকে কর আদায় করতে হবে। যে সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুত্ থাকবে সেখানেই স্বয়ংক্রিয় হিসাব যন্ত্র থাকবে। রাজস্ব আদায় বাড়াতে জনবল বৃদ্ধিসহ আধুনিকায়ন করা হবে এনবিআর।

শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলনকক্ষে বাণিজ্য সংগঠন ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, বিডা, বেপজার চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে এফবিসিসিআই সভাপতি মোঃ শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, সহ-সভাপতি মোঃ মুনতাকিম আশরাফসহ এফবিসিসিআইর পরিচালকগণ, বিভিন্ন ব্যবসায়ী চেম্বারের সভাপতিগণ আলোচনায় অংশ নেন।

সভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, গত ১০ বছরে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশে অকল্পনীয় উন্নয়ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এখন আমাদের পরবর্তী উন্নয়ন ধাপে যেতে হবে। দেশের উন্নয়নে মূল চালিকাশক্তি হবে বেসরকারি খাত।

বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, খেলাপি ঋণ সম্পর্কে আমি আগে যা বলছি, তা-ই বাস্তবায়ন হবে। বলেছিলাম খেলাপি ঋণ বাড়বে না, বলার পরে খেলাপি ঋণ বাড়েনি। খেলাপি ঋণ কমাতে হবে। তা না হলে ব্যাংকিং খাতের অবস্থা খুব খারাপ  হয়ে যাবে। বৈঠকে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানো, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা এবং ডুয়িং বিজনেস এ উন্নতির দাবি করা হয়। অর্থমন্ত্রী বলেন, ডুইং বিজনেস সূচকে উন্নতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টাকে প্রধান করে একটি কমিটি করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাদের কাজ করার সময় দিন। তিন মাস পর এর ফলাফল পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

ব্যাংকগুলোর ঋণ অবলোপন সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আমার সঙ্গে পরামর্শ করেই এ সংক্রান্ত সার্কুলার দিয়েছে। খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এটি করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। কর আদায়ের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এবার আমাদের রাজস্ব আহরণ টার্গেট দুই লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা। এটা অর্জন করতে হবে। সরকারের চাহিদা বেড়েছে। দেশের উন্নয়নে আমাদের রাজস্ব আহরণ বাড়াতে হবে। ব্যাংক ঋণে সুদের হার কমানো হবে, এটা না করলে ব্যবসা কঠিন হয়ে যাবে।

পুঁজিবাজার নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, ব্যবসায়ীদের দাবি পুঁজিবাজারে তিন ধাপে ট্যাক্স কাটা হয়। এভাবে কয়েক ধাপে না কেটে একবারে কাটা হবে ট্যাক্স। এছাড়া পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সবকিছু করা হবে। সঞ্চয়পত্রে সুদ হার ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাতারাতি সঞ্চয়পত্রে সুদ হার কমিয়ে ফেললে এর থেকে যারা সুবিধাভোগী তাদের জন্য সমস্যা তৈরি হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে ব্যবসায়ীরা তাদের সমস্যা ন্যায্যভাবেই তুলে ধরেছেন। আমাদের দায়িত্ব হলো সেগুলো সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়া। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন কিভাবে কাজ করতে হবে। ব্যাংক ঋণের সুদের হার বেশি হওয়ায় স্প্রেডও বেশি। তাছাড়া, ব্যবসায়ীরা বলেছেন করের হার বেশি।  আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে কাউকে কষ্ট দেয়া নয়, ব্যবসায়ীদের কষ্ট না দিয়ে কাজ করা হবে। বৈঠক শেষে এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, সিঙ্গেল ডিজিটে সুদ হার অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। হয়রানি মুক্ত বিনিয়োগ পরিবেশ আমরা চাই। আমরা সরকারি আশ্বাসের ওপর বিশ্বাস রাখতে চাই। সমস্যাগুলো সমাধানে করণীয় নির্ধারণ করবেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। অনেক ক্ষেত্রে ডাবল ট্যাক্স দুই-তিনবার ট্যাক্সও দিতে হয়। এক্ষেত্রে মন্ত্রী বলেছেন, ট্যাক্স কমিয়ে এনে করনেট বাড়িয়েও লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব। অর্থমন্ত্রী আগামী জাতীয় বাজেটে কর ও শুল্ক হার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার বিষয়ে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।