যুব উন্নয়নে সাফল্যের গল্প

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২১, ২০:১৪

 

>> অরণ্য সৌরভ

 

স্কুুল-কলেজে পাঠকালে উচ্চতা কম হওয়ায় ক্লাস ক্যাপ্টেন বা অনেক ক্ষেত্রেই কাজ করার সুযোগ পাননি তিনি। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও এলাকায় ছিল না তেমন কোনো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখার পরই খুলে যায় স্বপ্ন পূরণের দরজা। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনেক তরুণ-যুবরাই অবসর যাপন করছেন। তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছেন অনেকে। পড়াশোনার পাশাপাশি সংগঠনের অনেক কাজের সঙ্গে  নিজেকে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত রেখেছেন। যেন সবসময় কাজের মধ্যেই আছেন। তেমনি একজন মাসুমা মরিয়ম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ থেকে স্নাতক শেষ করে বর্তমানে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত। বগুড়ার শেরপুরের সাধুবাড়ি গ্রামে দুরন্ত শৈশব কাটলেও বাবা-মায়ের চাকরির সুবাদে শেরপুর শহরে বেড়ে ওঠা। প্রভাষক বাবা মোহাম্মাদ আলী ও গ্লোবাল টিচার্স প্রাইজ ২০১৭’র বিশ্বের সেরা ৫০ শিক্ষকের একজন মা শাহনাজ পারভীনের বড় সন্তান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতেই যুক্ত হন কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে। বিভিন্ন সংগঠনে কাজের সুবাদে তিনি উপলব্ধি করেন—সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিংবা কাজের ক্ষেত্রে যুবরা তেমন মূল্যায়িত হচ্ছেন না। কোনো ধরনের বৈষ্যম্যের শিকার না হয়ে যুবরা যেন নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন তেমন একটি প্ল্যাটফরম তৈরির পরিকল্পনা করেন তখন থেকেই। পরিবারের সহযোগিতায় ২০১৫ সালে স্থানীয়ভাবে শেরপুরের যুবদের জন্যে কাজ করার বাসনা থেকেই ‘স্বপ্ন ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশান’র যাত্রা শুরু করেন। ধীরে ধীরে বিভিন্ন কাজ চালিয়ে যাওয়ার এক পর্যায়ে ২০১৮ সালে সংগঠনটি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিবন্ধিত একটি সংগঠন হয়ে ওঠে। এরপর থেকে যুবদের জন্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, ওয়ার্কশপ ও ক্যাম্পেইনের আয়োজনের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন প্রশিক্ষণে স্থানীয় যুবদের সুযোগ সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। সারাদেশে তাদের কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে ২০১৯ সালে প্রথম বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সংগঠনে যুক্ত করেন। সংগঠনটি ইতোমধ্যে মহামারির শুরুতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্কুলে করোনা সচেতনতামূলক ক্যাম্পিং, করোনার সময় যুবদের বিভিন্নভাবে কাজের সঙ্গে যুক্ত রাখতে ফটোগ্রাফি কনটেস্ট, লেখালেখি প্রতিযোগিতা, পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন প্রতিযোগিতা, করোনার সময়ে ৩৪টি দেশের প্রায় ৭৫০ জন তরুণ-তরুণী এবং পাঁচ দেশের ১০ জন অতিথি নিয়ে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সামিট ২০২০’, মহামারিকালে মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক ক্যাম্পেইন ‘হাউ আর ইউ, রিয়েলি?’ আয়োজন করেছে। এছাড়া তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে আয়োজন করা হয় মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রশিক্ষণ ‘সাইকোলজিক্যাল ফার্স্ট এইড ট্রেইনি’। সেইসঙ্গে নারীর ওপর অত্যাচার ও ধর্ষণ প্রতিরোধে ‘রাইট টু ফাইট এগেইনস্ট হারেসমেন্ট’ ক্যাম্পেইন, ভলান্টিয়ারদের প্রতি মাসে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ই-মেইল কমিউনিকেশন, কমিউনিকেশন স্কিল ইত্যাদি যুগোপযোগী ট্রেনিং এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে স্কিল ট্রেক, ইয়ুথ স্কিল হ্যাকস ইত্যাদি প্রশিক্ষণের আয়োজন করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা ও নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নিজের নামের পাশে দেশের পতাকা দেখার মতো প্রশান্তি আর হয় না।’ সামাজিক ও যুব উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ আইকন অ্যাওয়ার্ড ২০১৯’, ‘গ্লোবাল চেইঞ্জমেকার অ্যাওয়ার্ড-২০২০’, ‘আউটস্ট্যান্ডিং লিডারশিপ এজ এ ফ্রন্ট লাইন ফাইটার ডিউরিং কোভিড-১৯’ সম্মাননা, ‘কালাম ইয়ুথ লিডারশিপ কনফারেন্স ২০২০’-এ সেরা বক্তা এবং সম্প্রতি ‘কালাম ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২১’ লাভ করেছেন। এছাড়াও স্থান পেয়েছেন ‘ওয়ার্ল্ড ইয়াং পারসন অব দ্য ইয়ার ২০১৯’র সংক্ষিপ্ত তালিকায়।