দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নতুন বান্দুরা এলাকায় সংখ্যালঘু এক পরিবারের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। তবে এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে দখলের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। এ ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
এলাকার বাসিন্দারা জানান, গত রবিবার রাতে উপজেলার শিকারীপাড়া ইউনিয়নের গরিবপুর গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে বাদল মিয়া নতুন বান্দুরা গ্রামে সুবল চন্দ্র গংদের জমি জোরপূর্বক দখল করতে আসেন। এ সময় ওই সংখ্যালঘু পরিবার ও এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে তারা সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হন। পাটনি পরিবারের সদস্য কানাই দাস জানান, নতুন বান্দুরা মৌজার সাবেক ২২৫ ও আরএস ২১৯নং দাগের ১ একর ৯ শতাংশ জমি রয়েছে। ঐ জমির কাতে পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত ৫৫ শতাংশ ও ১১.৭৫ শতাংশ ক্রয় সূত্রে মালিক হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখল করে আসছি। দাদা-বাবার নামে এ জমির রেকর্ডও রয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় প্রভাবশালী বাদল মিয়া এলাকার কিছু ক্ষমতাসীনদের সহায়তা নিয়ে আমাদের সম্পত্তি দখল চেষ্টা করে যাচ্ছে।
কানাই দাসের ভাই শ্রীদাম দাস পাটনি অভিযোগ করেন, গত রবিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে বাদল মিয়ার লোকজন বাঁশ-খুঁটি নিয়ে জমি দখল করতে আসে। এসময় বাধা দিতে গেলে তারা আমাদের হুমকি-ধামকি দেয়। প্রতিবেশি মোঃ আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, আমি ৩১ বছর যাবত এ গ্রামে আছি। ঐ জমি পাটনিদেরই। রবিবার রাতে বাদলের লোকজনের জমি দখলের চেষ্টা এলাকাবাসী প্রতিহত করেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার হালদার বলেন, জমিটি সুবল গংদের এটা সবাই জানে। এটা ওদের পৈত্রিক ভিটা। এভাবে রাতের আঁধারে জোরপূর্বক জমি দখল করতে আসাটা ঠিক হয়নি। কয়েক বছর আগে আমরা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি চেয়ারম্যানদের উপস্থিতিতে জমিটি সুবলদের বুঝিয়ে দিয়েছি।
এ ঘটনায় সোমবার রাতে নবাবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। অভিযোগকারী সুবল চন্দ্র দাসের স্ত্রী গীতা রানী দাস জানান, বাদল মিয়ার লোকজন আমাদের ভয়ভীতিসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। বাদল মিয়াসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনের নামে অভিযোগপত্র থানায় জমা দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বাদল মিয়ার বলেন, ‘কয়েকটি বাঁশ রাখলেই কি দখল হয়ে যায়। আমি কয়েকটি বাঁশ রাখতে লোক পাঠিয়েছিলাম।’
নবাবগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক সফিকুল ইসলাম সুমন অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
