অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিত্সা সামগ্রী দিয়েছে ভারত

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২১, ২২:১৩

করোনা মহামারি মোকাবিলা ও জনস্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের ব্যাপক প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে ৩১টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স ও প্রায় ২০ টন প্রয়োজনীয় চিকিত্সাসামগ্রী দিয়েছে ভারত। গতকাল মঙ্গলবার ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের কাছে এসব চিকিত্সাসামগ্রী হস্তান্তর করেন।

হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, গত মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরকালে ১০৯টি লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ               হিসেবে প্রথম চালানে ৩১টি অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি অ্যাম্বুলেন্সগুলোও শিগগিরই পাঠানো হবে।

হস্তান্তর করা চিকিত্সাসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে— অক্সিজেন ন্যাজাল ক্যানুলা, অক্সিজেন ফেস মাস্ক, অক্সিজেন ফ্লো মিটার, নন-রিব্রিদার মাস্ক, পালস অক্সিমিটার ডিভাইস, হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা, ১০ লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন তরল মেডিক্যাল অক্সিজেন সিলিন্ডার, ৪৫ লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এলএমও সিলিন্ডার, অক্সিজেন কনসেস্ট্রেটর এবং ইনফ্রা থার্মোমিটার।

ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো চলমান করোনা মহামারি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের ব্যাপক প্রচেষ্টায় সহায়তা করার উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে। এমনকি মহামারির পরেও অ্যাম্বুলেন্সগুলো জনস্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নয়নে বাংলাদেশের চলমান প্রচেষ্টায় সহায়ক হবে। এই উপহার বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে অনন্য এবং বিশেষ বন্ধুত্বের প্রতি ভারতের অবিচল এবং দীর্ঘমেয়াদী অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে এয়ার বাবল চুক্তির অধীনে আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে ফ্লাইট চালু হতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠান শেষে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারতে চিকিত্সার জন্য দেশে অনেক রোগী অপেক্ষা করছেন। এ অবস্থায় আমাদের ভারতকে অনুরোধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। তাই, তাদের ধন্যবাদ যে তারা আমাদের অনুরোধ রেখেছে। আমরা আশা করছি, ২০ আগস্টের মধ্যে এয়ার বাবল চুক্তির অধীনে ফ্লাইট চালু হবে। এয়ার বাবল ফ্লাইটে যাত্রীরা সরাসরি এক গন্তব্য থেকে ফ্লাইটে উঠে নির্দিষ্ট গন্তব্যে নামবেন। তৃতীয় কোনো বিমানবন্দরে ফ্লাইটটি নামবে না। ভারত থেকে টিকা আনার বিষয়ে ড. মোমেন বলেন, আমরা আশা করছি করোনা ভাইরাসের বাকি টিকা দেওয়ার যে আশ্বাস ভারত দিয়েছে, সেটা তারা পূরণ করবে।

টিকা প্রসঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ভারতে অভ্যন্তরীণভাবে করোনা টিকার চাহিদা মিটে যাওয়ার পর আমরা আবার টিকা রপ্তানি শুরু করব। আমরা কখনোই বলিনি যে, টিকা দেব না। যত দ্রুত সম্ভব আমরা টিকা রপ্তানি শুরু করব। আর টিকা রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।