হাইকোর্ট বলেছে, ব্যাংকিং সেক্টরে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি হচ্ছে। এসব দুর্নীতির পেছনে যেসব রাঘব বোয়ালরা জড়িত তাদের না ধরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ব্যস্ত দুর্বলদের (শিক্ষক) নিয়ে। গতকাল কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা নিয়ে রায় ঘোষণার পূর্বে দুদক কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খানের উদ্দেশে আদালত এ মন্তব্য করেন। আদালত বলে, কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে কারা জড়িত এটা দুদক জানে। কিন্তু ব্যাংকিং সেক্টরের হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের না ধরে কোন শিক্ষক স্কুলে যাচ্ছেন কি যাচ্ছেন না সেটা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে দুদক। এতে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জনগণের ধারণা ভিন্ন হয়। এ পর্যায়ে দুদক কৌঁসুলি বলেন, এটা তো মিডিয়া প্রচার করছে। আদালত বলে, আপনারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছেন বলেই মিডিয়ায় প্রচার হচ্ছে।
হাইকোর্ট বলে, ব্যাংকিং সেক্টর, কাস্টমস হাউজ, বন্দর, ভূমি অফিসসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে বড় বড় দুর্নীতি হচ্ছে। এসব গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ দুদককে গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। যেখানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার জন্য দুদকের জনবলের সংকট রয়েছে সেখানে দুদক কোন কোন দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করবে তার একটি অগ্রাধিকার তালিকা থাকতে হবে তাদের কাছে। বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে এ মন্তব্য করেন। হাইকোর্ট বলে, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য অনুসন্ধান এবং তদন্ত করার এখতিয়ার দুদকের আছে। কিন্তু বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্তের বিষয়টি আইন অনুমোদন করে না। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে গভর্নিং বডি ব্যবস্থা নেবে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেসুর রহমান বলেন, হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে দুদকের বিষয়ে একটু বিরক্তি প্রকাশ করে বলেছে, অন্যান্য সেক্টরের দুর্নীতির যে বিষয়গুলো আসছে, দুদককে অবশ্যই সে বিষয়গুলো অগ্রাধিকার দিতে হবে। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে দুদক অনুসন্ধান ও তদন্ত করতে পারে তবে সেগুলো তালিকার উপরে থাকা উচিত নয়।
