রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা বলেছেন, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের প্রতি নয়, বিএনপি ভরসা করে বসেছিল অলৌকিক শক্তির ওপর, যারা তাদের এমনিতেই ক্ষমতায় বসাবে। বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতির ওপর তাদের নিজ দলের কর্মীরাই আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল বলেই তারা নির্বাচনের মাঠে নামেনি, কোন ঝুঁকি নেয়নি। আর জামায়াতকে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়ায় দেশের জনগণ বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ভোটাররা বিএনপিকে ব্যালটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করেছে।
প্রথমে ডেপুটি স্পীকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া এবং পরে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার রাতে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, সরকারি দলের ইসরাফিল আলম, শফিকুল ইসলাম শিমুল ও আক্তারুজ্জামান বাবু।
আলোচনায় অংশ নিয়ে মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণটি বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ দলিল। বাংলাদেশের অর্থনীতি সুদৃঢ় অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। এবারের নির্বাচনে স্পষ্ট প্রমাণিত, দেশের সাধারণ মানুষ বিএনপি-জামায়াত-ঐক্যফ্রন্টের নেতিবাচক বক্তব্য গ্রহণ করেননি। তাদের বক্তব্যে এমন ছিল যে, মানুষের মধ্যে দ্বিধার সৃষ্টি হয়েছিল আদৌ নির্বাচন হবে কি না। বিএনপি কোন অলৌকিক শক্তির ওপর ভরসা করেছিল, যারা তাদের ক্ষমতায় বসাবে। বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতির ওপর তাদের নিজের কর্মীরা আস্থা হারিয়ে ফেলেছে বলেই নির্বাচনের মাঠে নামেনি। কোন ঝুঁকি নেয়নি। বিএনপির প্রার্থীরা একদিনের জন্য নির্বাচনী এলাকায় যাননি। আর জামায়াতকে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়ায় দেশের তরুণ প্রজন্ম তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। ষড়যন্ত্রের মধ্যে জন্ম বলেই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিএনপি সবসময় ক্ষমতায় যেতে চায়। কিন্তু সেদিন আর নেই। বিএনপিকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তাদের নির্বাচিত এমপিদের উচিত সংসদে এসে কথা বলা। তিনি বলেন, পৃথিবীর বড় বড় প্রতিষ্ঠান যারা অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে, তারা সকলে একবাক্য স্বীকার করেছে এদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি ও প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে ২৮তম শক্তিশালী দেশ হবে। তিনি দেশের বড় বড় সমস্যাগুলো নিয়ে সংসদে অন্তত একদিন সাধারণ আলোচনার প্রস্তাব দেন।
ইসরাফিল আলম বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে গেছে। সংসদীয় রীতিনীতিতে এমপিদের কাজই হলো সংসদে যোগ দিয়ে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করা। নির্বাচনে ভরাডুবির পর এখন সংসদীয় গণতন্ত্রকে বিতর্কিত করতে সংসদে যোগ দিচ্ছে না বিএনপি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে আন্দোলন-সংগ্রাম কিংবা শক্তি প্রয়োগ করে একচুলও নড়াতে পারবে না। তাই ষড়যন্ত্র বাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন, তাতে সাড়া দিয়ে কাজ করুন, নইলে আপনাদের অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যাবে না।
শফিকুল ইসলাম শিমুল বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাবিজয়ের একমাত্র দাবিদার উন্নয়ন-সমৃদ্ধির রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপি মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে। যে প্রার্থী মহাদুর্নীতিবাজ, তারেক রহমানকে বেশি টাকা দিয়েছে, তাকেই মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এ কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরাই তাদের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামেনি। দেশের মানুষ লুটেরা, যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতাবিরোধীদের আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না, তা এবারের নির্বাচনে আবারও প্রমাণ হয়েছে।
