আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, ‘দেশে ষড়যন্ত্র চলছে। দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনে বাংলাদেশের অনেকেই উচ্ছ্বসিত হয়ে স্বপ্ন দেখছেন। মনে রাখবেন এটা বাংলাদেশ। রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছি। যে কোনো ষড়যন্ত্রকে মোকাবিলা করতে হবে। কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তি এখানে যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’ গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রশমনে বঙ্গবন্ধুর দর্শন ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এক আলোচনাসভা এবং করোনা ভাইরাস প্রতিরোধসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ উপ-কমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ষড়যন্ত্র করে এখানে পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট ঘটানো হয়েছে, ২১ আগস্ট ঘটানো হয়েছে। এ ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা আমাদের করতে হবে। কোনো সাম্প্রদায়িক অপশক্তির আস্ফাালন এ দেশের অর্জিত সোনালি অর্জনগুলো যেন নস্যাত্ করতে না পারে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যাতে এগিয়ে যেতে পারে, সেজন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আন্দোলনের নামে বিএনপি কোথায় পৌঁছেছে সেটা মঙ্গলবার চন্দ্রিমা উদ্যানে তাদের তাণ্ডব থেকে প্রমাণিত হয়। তারা পুলিশের ওপর অহেতুক ইট-পাটকেল ছুড়েছে। তারা করোনাকালে চরমভাবে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেছে। পরিকল্পিতভাবে তাণ্ডব আর বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। পুলিশের ওপরে বিনা উসকানিতে হামলা করেছে। পরিকল্পনা সচিবের গাড়িসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। তাদের উদ্দেশ্যই ছিল শীর্ষ নেতৃত্বকে খুশি করা। এটাই বিএনপির রাজনীতি।
‘সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই’ মর্মে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের সমালোচনা করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার নয়, প্রকৃতপক্ষে বিএনপির পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে। সর্বশেষ নির্বাচনগুলোতে বিএনপির ভরাডুবি, আন্দোলনের ব্যর্থতা প্রমাণ করে জনগণের কাছে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা নেই। ফলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করে ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তারা।’
খালেদা জিয়ার ছয়টি জন্মদিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খালেদা জিয়ার জন্মদিন সম্পর্কে আমার বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। এটা আমার কথা নয়, আমি হাওয়া থেকে পাইনি। এটা খালেদা জিয়ার জীবনী থেকে পাওয়া, খালেদা জিয়ার জীবনী থেকে ছয়টি জন্মদিন পাওয়া। সর্বশেষ আমরা দেখলাম টিকার রেজিস্ট্রেশনে খালেদা জিয়ার জন্মদিন আরেকটি। তারা ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার ভুয়া জন্মদিনে কেক কাটেনি কিন্তু মিলাদ দিয়েছে। তারা ভুয়া জন্মদিন থেকে সরে আসেনি। আমি মির্জা ফখরুলের কাছে জানতে চাই ছয়টির মধ্যে কোনটি খালেদা জিয়ার প্রকৃত জন্মদিন, এটা জাতি জানতে চায়।’
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর সভায় সভাপতিত্ব এবং ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্যসচিব সুজিত রায় নন্দীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুক খান, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য মারুফা আক্তার পপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, স্বাচিপের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. আবদুল আজিজ প্রমুখ। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি এস এম মাকসুদ কামাল।
