সুফিবাদের শান্তির বাণী বিশ্বময় ছড়াতে জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি সিরাজগঞ্জের খাজা এনায়েতপুরী (রহ) সুফি সমাজ ও মাইজভাণ্ডারি একাডেমির উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামে বায়াত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব বিষয়ক এ আন্তর্জাতিক অনলাইন সুফি সেমিনারে কানাডার টরন্টো থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক ড. গোলাম দস্তগীর। চীন প্রবাসী পিএইচডি গবেষক জালাল আহমেদের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হাফেজ মুহাম্মাদ নূর হোসেন। এছাড়া এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ দেশ-বিদেশের আরো অনেকেই সেমিনারে অংশ নেন। এতে বক্তারা একজন হাক্কানি পির তথা মুর্শিদের মাধ্যমে বায়াত গ্রহণ করে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে নিজেকে সমর্পণ করে তাজকিয়াতুন্নাফস বা আত্মশুদ্ধি অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পবিত্র কোরআন ও সহিহ্ হাদিসের আলোকে পিরের কাছে বায়াতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার ওপর মূল আলোচনা উপস্থাপন করেন সেমিনারের প্রধান বক্তা ড. হাফেজ মুহাম্মাদ নূর হোসেন। তিনি বলেন, ‘বায়াত’ আরবি শব্দ। যার অর্থ ‘প্রতিজ্ঞা করা, আনুগত্য স্বীকার করা’ ইত্যাদি। প্রসিদ্ধ হাদিসে বিভিন্ন প্রকার বায়াতের বর্ণনা পাওয়া যায়। রসুলুল্লাহ (স)-এর কাছে লোকজন কখনো হিজরত ও কখনো জিহাদের ওপর বায়াত গ্রহণ করতেন। কখনো নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতের ওপর বায়াত গ্রহণ করতেন। আবার কখনো সুন্নতে নববির ওপর মজবুতভাবে আমল করা এবং ইবাদতে আগ্রহী হওয়ার ওপর বায়াত নিতেন। ইসলাম ও জিহাদের জন্য বায়াত ছাড়াও মহানবি হজরত মুহাম্মাদ (স) সাহাবা (রা)-গণের নিকট থেকে বিভিন্ন বিষয়ের বায়াত নিতেন। যেমন রসুলুল্লাহ (স) ইমানদার নারীগণের নিকট থেকে এই মর্মে বায়াত নিতেন যে তারা আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না। এছাড়া তাদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না। জারজ সন্তানকে স্বামীর ঔরস থেকে আপন গর্ভজাত সন্তান বলে মিথ্যা দাবি করবে না এবং ভালো কাজে আল্লাহর নবির (স) অবাধ্যতা করবে না। (আল কোরআন ৬০:১২)।
সেমিনারে বক্তারা আরো বলেন, একদিন রসুলুল্লাহ (স) ওনার খেদমতে উপস্থিত সাত-আট জন সাহাবিকে এই মর্মে বায়াত গ্রহণ করতে বললেন যে, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে, আল্লাহর সঙ্গে শিরিক করবে না, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবে। (মুসলিম, জাকাত অধ্যায়, ১/৩৩৪)। সেমিনারে সবশেষে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তিসহ বিশ্বমানবতার মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আইয়ুব আলী।
