আইসিএবির ওয়েবিনারে বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশগত হুমকি সম্পর্কে কর্মীদের সচেতন করতে উদ্যোগী হয়েছে দেশের উদ্যোক্তারা। তারা এটাও বুঝতে পারছে যে, পরিবেশগত ও সামাজিক হুমকি মোকাবিলা করে টেকসই শিল্প বিকাশ ও নিরবচ্ছিন্ন উত্পাদন নিশ্চিত করা সম্ভব। এতে অর্থনীতির উন্নয়নে কর্মচারীর অবদান আরো বাড়াবে। কোম্পানির টেকসই উন্নয়ন নির্ভর করে কর্মচারী, সরবরাহকারী, গ্রাহক এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কের ওপর।
গতকাল ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) আয়োজিত ‘এনভায়রনমেন্টাল, সোশ্যাল অ্যান্ড করপোরেট গভর্নেন্স (ইএসজি)-গ্লোবাল পার্সপেক্টিভ’ বিষয়ক এক ওয়েবিনারে বক্তারা এই পর্যবেক্ষণগুলো তুলে ধরেন।
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন। আইসিএবি প্রেসিডেন্ট মাহমুদুল খসরু এফসিএ স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং আইসিএবির সাবেক প্রেসিডেন্ট নাসির উদ্দিন আহমেদ এফসিএ সেশন চেয়ারম্যান হিসেবে অধিবেশন পরিচালনা করেন।
আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়াং এলএলপি, যুক্তরাজ্য-এর সিনিয়র ম্যানেজার আসিফ চৌধুরী এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি)-এর গবেষণা সহযোগী আদিবা নুরাইনা রিশা যৌথভাবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। আইসিএবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শুভাশীষ বসু প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট সিদ্ধার্থ বড়ুয়া এফসিএ সমাপনী বক্তব্য রাখেন।
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এমপি বলেন, করপোরেট সুশাসন একটি কোম্পানিকে পরিচালিত, পর্যবেক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ এবং কোম্পানির স্টেকহোল্ডারদের স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখে। তিনি বলেন, সফল ব্যবসায়ীরা করপোরেট, স্টেকহোল্ডার, জনসাধারণ এবং পরিবেশকে একত্রিত করে টেকসই ব্যাবসায়িক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে থাকে। তাতে নিরীক্ষকদের ভূমিকা প্রশংসনীয়, কারণ তারা করপোরেট এবং জনসাধারণের মধ্যে একটি সংযোগ হিসেবে কাজ করে বলে তিনি মনে করেন।
আইসিএবি প্রেসিডেন্ট মাহমুদুল হাসান খসরু এফসিএ করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) নিয়ে ইউরোপ ও আমেরিকার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সিএসআর নীতিমালা না মানলে প্রায় এসব দেশে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। তাদের আইনগুলো করপোরেশনগুলোকে কেবল লাভ এবং লভ্যাংশের পরিবর্তে করপোরেশনের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে সিএসআর অনুশীলনে কাঠামোগত, পদ্ধতিগত এবং এর ব্যবহারিক প্রয়োগের অভাব আছে। তিনি পরামর্শ দেন যে, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টগণ শীর্ষস্থানীয় ব্যবস্থাপনার জন্য তথ্য প্রদানকারী হিসেবে স্টেকহোল্ডারদের পরিবেশ, সামাজিক এবং করপোরেট গভর্নেন্সের নিয়মগুলো বিবেচনা করে কোম্পানির ভবিষ্যতের তদারকি জন্য কার্যক্রম পরিকল্পনা করতে হবে।
