শুরুতেই হোক পাঠ পরিকল্পনা

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:৪১

আরাফাত শাহরিয়ার

 

সাপ্তাহিক সূচি: রুটিন করার প্রথম ধাপ হচ্ছে সিলেবাস, পরীক্ষার সিডিউল, বাড়ির কাজ, অ্যাসাইনমেন্ট ইত্যাদির লিস্ট পড়ার টেবিলের সামনে এমন এক জায়গায় সেঁটে রাখো, যেন ঢুকলেই চোখে পড়ে। বাঁধাধরা যে কাজগুলো প্রতি সপ্তাহে করতে হয় তা ওই সূচিতে টুকে নিতে হবে। এবার সপ্তাহের সাত দিনের একটি রুটিন তৈরি করতে হবে। শনি, রবি, সোম...এভাবে প্রতিটি দিনের কোন ঘণ্টায় কোন কাজ বা কোন পড়া তৈরি করবে, তা সাজাবে। প্রয়োজন অনুসারে তা হালনাগাদ করে নিতে হবে মাঝে মধ্যেই। মাসে অন্তত একবার এ কাজটি করলে ভালো হয়।

ধরা যাক, ইংরেজিতে দুর্বলতা রয়ে গেছে। সিলেবাস শেষ হয়নি গণিতের। তাহলে এ দুটি বিষয় প্রাধান্য পেতে পারে হালনাগাদ সিলেবাসে। শিক্ষকের চেয়ে একধাপ এগিয়ে থাকতে চাও? ক্লাসে শিক্ষক যে পড়াটি পড়াবেন তা আগেই রাখো পড়ার রুটিনে। টিচারের পড়া সহজেই বুঝতে পারবে। এটি একটি অসাধারণ কৌশল। বিশেষ করে যারা অনেক ছাত্রছাত্রীর মধ্যে পড়া বুঝতে পারে না কিংবা দুর্বল, তাদের অবশ্যই এ কৌশল অবলম্বন করা উচিত। খেয়াল রাখতে হবে সব বিষয়ে যেন সমান গুরুত্ব পায়। ফাইনাল পরীক্ষার প্রস্তুতির আগে রুটিনটা সাজাতে পারো বিশেষভাবে। বাসায় নিজে নিজে পরীক্ষা দেওয়ার টাইমও রাখতে পারো রুটিনে। পড়ার টেবিলে রুটিনটা এমনভাবে টাঙ্গিয়ে রাখতে হবে, যাতে খুব সহজেই চোখে পড়ে।

পাঠ মাথায় রেখে পরিকল্পনা

একটি পূর্ণাঙ্গ পাঠপরিকল্পনা করতে অনেক সময় লাগতে পারে। অনেকবার কাটা-ছেঁড়াও করা লাগতে পারে। ধীরে ধীরে তা একটি পূর্ণাঙ্গ রুটিনে পরিণত হবে। পাঠপরিকল্পনা করার ক্ষেত্রে এমন লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা যাবে না, যা বাস্তবে অনুসরণ করা যাবে না। সিলেট, মির্জাপুর ও কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ এবং রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের সাবেক শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ মনে করেন, পাঠপরিকল্পনা করে বসে থাকলেই হবে না, তা ঠিকঠাক মেনে চলাটা জরুরি। প্রথম দিকে একটু কষ্ট হতে পারে। কয়েক দিন চেষ্টা করলেই এটি আয়ত্তে চলে আসবে। শৃঙ্খলার মধ্যেও একটি আনন্দ আছে।

রুটিনে একই ধরনের বিষয় পরপর না রেখে বিষয়ের বৈচিত্র্য রাখতে হবে। এতে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হবে। কত ঘণ্টা পড়লে সেটা মূল বিষয় নয়, বরাদ্দ করা সময়ে কতটা পড়লে রুটিন পর্যালোচনায় এটাই গুরুত্বপূর্ণ। পাঠপরিকল্পনা যে শতভাগ অনুসরণ করতে হবে, তাও কিন্তু নয়। রুটিনের ৮০ শতাংশ অনুসরণ করতে পারলেও এগিয়ে থাকবে  অন্যান্য ছাত্রছাত্রীদের চেয়ে। কোনো কারণে পড়ায় ছেদ পড়লে পরে তা পুষিয়ে নিতে হবে। রিকভারির জন্য একটি ঘণ্টাও রাখা যেতে পারে রুটিনে।