যে ১০টি ম্যালওয়্যারের কাছে অ্যান্টিভাইরাসও হার মানে

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:৪৬

 

ভাইরাস ও ম্যালওয়্যারের হাত থেকে বাঁচতে আমরা অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করে থাকি। অনেক অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহারকারীরা বলেন যে, অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহারের পরও ভাইরাসের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে বর্তমানে ম্যালওয়্যার এর আক্রমণ বেশি হয়ে থাকে। নতুন নতুন অনেক ম্যালওয়্যার আছে  যা শক্তিশালী অ্যান্টিভাইরাসকেও হার মানায়।

দেখা গিয়েছে, অনেকেই অনলাইন থেকে নামি-দামি ব্র্যান্ডের অ্যান্টিভাইরাসের ট্রায়াল ভার্সন ব্যবহার করে থাকেন। ট্রায়াল ভার্সন অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে সব সময় সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব হয় না। এমন কিছু ম্যালওয়্যার রয়েছে যা নামি-দামি ব্র্যান্ডের অ্যান্টিভাইরাসকেও হার মানায়। চলুন এমন দশটি ম্যালওয়্যার সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক যেগুলো শক্তিশালী অ্যান্টিভাইরাসকেও হার মানায়।

জিউস গেমওভার

এই ম্যালওয়্যার বাণিজ্যিক সফটওয়্যারগুলোকে প্রভাবিত করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত করে। ক্রেডিট কার্ড নম্বর, ব্যাংকের পাসওয়ার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হ্যাক করতে অভ্যস্ত এই জিউস গেমওভার ভাইরাস। বিশ্বের কয়েক লক্ষ অ্যাকাউন্ট এই জিউস গেমসওভার ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত।

জিউস

প্রায় ১১ বছর আগে জিউস ম্যালওয়্যারের খোঁজ পাওয়া যায়। কম্পিউটারে এই ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার কোনোভাবে ইনস্টল হলে নিজে থেকেই ইন্টারনেট থেকে একাধিক ফাইল আর সফটওয়্যার আপডেট নিতে থাকে। এই ভাইরাসটি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। ব্যাংক বা বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরির পেছনে একাধিকবার জিউস ম্যালওয়্যারের থাকার প্রমাণ মিলেছে। একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ২০০৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৭০ হাজার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আক্রান্ত হয়েছে এই ভাইরাসটির মাধ্যমে।

ক্রিপ্টোলকার

এটি খুব পরিচিত একটি ম্যালওয়্যার। কোনোভাবে কম্পিউটারে এই ভাইরাস ঢুকলে সেটির সিস্টেম লক করে দেয়। যতক্ষণ না ক্রিপ্টোলকারের ‘অরিজিন্যাল সিরিয়াল কি’ দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ সিস্টেম খোলা যায় না।

কলার

কলার ম্যালওয়্যারটি একটি ভয়ঙ্কর অ্যান্ড্রয়েড ট্রোজান টাইপের ভাইরাস। ২০১৪ সালে প্রথম এই ভাইরাসের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। মোবাইলে ব্রাউজিংয়ের সময় অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেমে ঢুকে পড়তে পারে কলার ভাইরাসটি। মূলত পর্নোগ্রাফির ওয়েবসাইট থেকে এই ভাইরাস ঢোকার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে।

ফ্ল্যাশব্যাক

ফ্যাশব্যাক এটি একটি ট্রোজান ভাইরাস যা সাধারণত ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম। ২০১৪ সালে ফ্ল্যাশব্যাক আক্রমণে ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম চালিত প্রায় ২২ হাজার অ্যাকাউন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে।

সাইকিপট

সাইকিপট এক প্রকার ট্রোজান ভাইরাস। ২০০৭ সালে প্রথম এই ভাইরাসের খোঁজ মেলে। পাসওয়ার্ড সম্পর্কিত যে কোনো তথ্য হ্যাক করতে সক্ষম এই সাইকিপট।

কনফিকার

সাধারণত উইনডোজ অপারেটিং সিস্টেম এই ম্যালওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত হয়। ২০০৮ সালে প্রথম এই ম্যালওয়ারের খোঁজ মেলে। কনফিকার এতটাই শক্তিশালী যে, কম্পিউটারে অ্যান্টি ভাইরাস থাকলে সেটিকে অকেজো করে খুব সহজেই অপারেটিং সিস্টেম বিকল করতে সক্ষম।

ব্ল্যাকপস

উইনডোজ অপারেটিং সিস্টেমের ‘পয়েন্ট অফ সেল’-এ (পিওএস) যদি ক্রেডিট বা ডেভিট কার্ড ব্যবহার করা হয়, তার পাসওয়ার্ডসহ ব্যাংকিংয়ের যাবতীয় তথ্য খুব সহজেই হ্যাক করতে পারে এই ব্ল্যাকপস ভাইরাস।

কোয়াকবট

যে কোনো পাসওয়ার্ড হ্যাক করার কাজে এই ম্যালওয়্যারের দক্ষতা অনেক। ২০১১ সালে প্রথম এই ম্যালওয়ারের খোঁজ পাওয়া যায়। অনলাইন ব্যাংকিং, শপিং, গেমিংসহ যে কোনো মূল্যবান পাসওয়ার্ড হ্যাক করতে সক্ষম এই কোয়াকবট।

স্টাক্সনেট

স্টাক্সনেট হলো সাইবার হামলার অন্যতম ভয়ঙ্কর অস্ত্র। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে বানচাল করার জন্য আমেরিকা ও ইসরায়েল প্রতিরক্ষা দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই ম্যালওয়্যার তৈরি করা হয়েছিল বলে মনে করা হয়। যদিও সরকারিভাবে এর কোনো তথ্যগত প্রমাণ মেলেনি এখন পর্যন্ত।