দুই বছর আগে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) আয়োজিত ‘টেলিযোগাযোগ সেবা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রম’ শীর্ষক গণশুনানিতে আসা ২৫টি সমস্যার মধ্যে ৬০ শতাংশের সমাধান হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: নাসিম পারভেজ।
আজ রবিবার বিটিআরসি আয়োজিত টেলিযোগাযোগ সেবা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রম’ শীর্ষক ভার্চুয়াল গণশুনানিতে এই তথ্য জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক। এসময় তিনি বলেন, ২০১৯ সালে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি আয়োজিত ‘টেলিযোগাযোগ সেবা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রম’ শীর্ষক গণশুনানিতে আসা ২৫ সমস্যার ৬০ শতাংশের সমাধান হয়েছে। এরমধ্যে আংশিক সমাধান ও চলমান প্রক্রিয়ায় রয়েছে ৪০ শতাংশ সমস্যা।
এসময় ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে কররেট সংক্রান্ত দুইটি, ইন্টারনেট সংক্রান্ত ছয়টি, মোবাইল ও ডেটা প্যাকেজ সংক্রান্ত দুইটি, কলড্রপ ড্রাইভটেস্ট ও কোয়ালিটি অব সার্ভিস সংক্রান্ত দুইটি, রিটেইলার সংক্রান্ত একটি, হ্যান্ডসেট সংক্রান্ত একটি, গণশুনানি ও জনসচেতনতা বিষয়ক চারটি প্রশ্নের অগ্রগতি ও বাস্তবায়নের তথ্য তুলে ধরা হয়।
এদিকে এবারের গনশুনানীতে এক গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তরে বিটিআরসি চেয়ারম্যান ও অন্যরা বলেন, অবৈধ মোবাইল সেট বৈধ করার বিষয়ে কাগজপত্রাদি জমা দেওয়া এবং যাচাইয়ের জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী ৩ মাস সময় পাবেন। তারপর সিদ্ধান্ত হবে মোবাইল ফোনের বিষয়ে। এরই মধ্যে বিটিআরসি পরীক্ষামূলক সময়ে হ্যান্ড সেট বন্ধ করার মতো সক্ষমতা অর্জন করেছে। সিদ্ধান্ত কী হবে তা কমিশন বৈঠকে নির্ধারিত হবে বলে জানানো হয়।
গণশুনানিতে অংশ নিয়ে গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে করোনাকালীন সময়ে কর্মী ছাঁটাইয়ের অভিযোগ তোলেন আবদুল্লাহ আল মামুন নামের এক ব্যক্তি। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, কর্মীছাঁটাইয়ের বিষয়টি গ্রামীণফোনের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এরপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখবে বিটিআরসি।

এসময় রাষ্ট্রায়ত্ব মোবাইল অপারেটর টেলিটকের সেবা নিয়েও অনেক অভিযোগ জমা হয়। উত্তরে বলা হয়, সম্প্রতি একনেকে টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্প পাস হয়েছে। টেলিটক নতুন বিনিয়োগ পাচ্ছে। বিনিয়োগ পেলে অপারেটরটি আরও সক্ষমতা অর্জন করবে, ভালো নেটওয়ার্কে উন্নত সেবা পাবেন ব্যবহারকারীরা। অব্যবহৃত ডাটা (ইন্টারনেট) ফেরতের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বলা, আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড হলো সেইম প্যাকেজ হলে ডাটা ফেরত দেওয়া এবং ডেটা ফরোয়ার্ড করা যাবে। ডাটা ফেরতের বিষয়ে কথা হচ্ছে। কমিটি গঠন করা হয়েছে। সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এবারের গণশুনানীতে মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ গ্রাহক স্বার্থ সম্পর্কিত ২০টি প্রশ্ন নিয়ে সংযুক্ত ছিলেন। কারিগরি সমস্যার কারণে তিনি প্রশ্নগুলো করতে না পারলে তাকি কমিশন থেকে প্রশ্নগুলো লিখিত আকারে দিতে বলা হয়। তিনি প্রশ্ন পাঠানোর পরে তার দুটো প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বাকিগুলো তার ঠিকানায় পাঠানো হবে বলে জানানো হয়। তার একটি প্রশ্নের (পাবজিসহ ক্ষতিকর ভিডিও গেমস বন্ধের বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা)জবাবে বলা হয়,হাইকোর্টর নির্দেশনা হাতে পেলে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গণশুনানিতে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম জুমের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে নিবন্ধিত ব্যক্তিরাই অভিযোগ ও প্রশ্ন করতে পারেন। শুনানিতে ২৫টির বেশি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়। শুনানিতে অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেট, টেলিটকের দুর্বল সেবা, অব্যবহৃত ডেটা ফেরত, ওকলার মোবাইল ইন্টারনেট গতি ইত্যাদি নিয়ে পাঠকরা প্রশ্ন করেন। যেসব প্রশ্নকারীরা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে শুনানি চলাকালে সংযুক্ত ছিলেন না, তাদের প্রশ্নের উত্তর তাদের ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান। শুনানিতে বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত মৈত্রসহ বিভিন্ন বিভাগের কমিশনার, মহাপরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/আরকে
