একুশে পদক ২০১৯ যারা পেয়েছেন তাদের তালিকা এরইমধ্যে প্রকাশ হয়েছে। তালিকায় শিল্পাঙ্গন থেকে এবার এই সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন প্রয়াত শিল্পী পপগুরু আজম খান, সুবীর নন্দী, খায়রুল আনাম শাকিল, লাকী ইনাম, সুবর্ণা মুস্তাফা ও লিয়াকত আলী।
আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে পদকপ্রাপ্তদের হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একুশে পদক তুলে দেবেন।
একুশে পদক পাওয়া প্রসঙ্গে সুবীর নন্দী বলেন, ‘এটা আসলে অন্যরকম এক ভালোলাগা। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি সবসময় অন্যসব সম্মাননার চেয়ে ভিন্ন। দায়িত্ববোধের জায়গাটা বেড়ে যায়। আমি কৃতজ্ঞ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি। সারাজীবন দেশের সঙ্গীতাঙ্গনে আমি কতটুকু অবদান রাখতে পেরেছি জানি না। তবে চেষ্টা করেছি গানের মধ্য দিয়ে মানুষের কাছে যেতে। মানুষের ভালোবাসার ফল এই সম্মাননা।’
অন্যদিকে আজম খানের একুশে পদক পাওয়া প্রসঙ্গে তার ছোটভাই সঙ্গীতজ্ঞ আলম খান নিজের ভালোলাগার কথা জানালেন। তিনি বলেন, ‘পপ গানের জন্য আজম খানের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছে রাষ্ট্র, এটি আনন্দের খবর। অনেক গর্বেরও। সারাজীবন গানের সঙ্গে বসবাস করে গেছে আজম। নাম, যশ, অর্থ, কোনোকিছুর লোভেই কোনোদিন পড়েনি। খুব ভালো লাগতো যদি আমার ভাইকে নিজের হাতে এই পুরস্কারটি নিতে দেখতাম। সরকারের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই আজম খানের সঙ্গীত চর্চার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়ার জন্য। তবে আমি মনে করি ওর স্বাধীনতা পুরস্কারও পাওয়া উচিত। আজম খান একজন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকায় সংঘটিত বেশ কয়েকটি ভয়াবহ গেরিলা অভিযানে অংশ নিয়েছিল সে।’
সুবর্ণা মুস্তাফা বলেন, ‘এই খবরটা জানার পর যে আনন্দ কাজ করেছে তার ব্যাখ্যা আসলে কয়েকটি বাক্যে বলে দেওয়া সম্ভব নয়। রাষ্ট্রীয় প্রাপ্তি অন্যরকম ভালোবাসা।’ লাকী ইনাম বলেন, ‘সম্মাননা সবসময় ভালোলাগার বিষয়। সেটি যদি হয় রাষ্ট্রীয় তাহলে সেটির মর্যাদা ভিন্নরকম। বেশ ভালো লাগছে। কৃতজ্ঞ আমি তদের প্রতি, যারা আমাকে এই পুরস্কারের যোগ্য মনে করেছেন। নাটকের সঙ্গে জীবনের অনেকটা সময় পার করেছি। বাকি জীবনটাও কাজ করে যেতে চাই।’
উল্লেখ্য, ৬ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মো. ফয়জুর রহমান ফারুকী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পদকপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করেছে। পদকপ্রাপ্তদের ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের তৈরি ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি পদক, ২ লাখ টাকা, একটি সম্মাননাপত্র ও একটি রেপ্লিকা দেওয়া হবে।
