রিপন কুমার দাস
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে সংসদীয় পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে চালু করতে হবে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ দুটি পদ্ধতির মিশ্রণে নতুন নির্বাচনী ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দুটি পর্যায়ে নির্বাচনের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ অথবা পৌরসভা অথবা সিটি করপোরেশনগুলো গঠিত হবে। প্রথম পর্যায়ে সাধারণ ভোটাররা জাতীয় সংসদের মতো নিজ নিজ ওয়ার্ড সদস্য বা কাউন্সিলর নির্বাচন করবেন। সদস্য বা কাউন্সিলররা পরবর্তী সময়ে পরিষদে এমপিদের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনে হাউসে নেতা নির্বাচন করবেন। বাংলাদেশের প্রত্যেক ভোটার যুগপত্ভাবে ইউনিয়ন অথবা পৌরসভা অথবা সিটি করপোরশনে একটি ভোট দেবেন। প্রতিটি পরিষদ দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে নির্বাহী নেতৃত্ব নির্বাচন করবে এবং নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হতে কোনো বাধা থাকবে না। স্বতন্ত্র সদস্যরাও অবশ্যই নির্বাচন করতে পারবেন।
নতুন আইনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে চেয়ার বা মেয়র নির্বাচিত হবেন না। যাঁরাই চেয়ার বা মেয়র হতে আগ্রহী, তাঁদের প্রথমে সদস্য বা কাউন্সিলর হতে হবে। এভাবে সব মেয়র বা চেয়ার প্রত্যাশী সদস্য বা কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে পরিষদ সদস্যদের গুণগত মান বাড়বে। এখন যে নির্বাচন হয় তা মূলত চেয়ারম্যান বা মেয়র কেন্দ্রিক। প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে সদস্য বা কাউন্সিলররা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেন। প্রতিটি পরিষদের অভ্যন্তরে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের আবির্ভাব ঘটবে। গণতান্ত্রিক জবাবদিহি ও তৃণমূলে সংসদীয় রীতির চর্চা শুরু হবে। নির্বাচন ব্যয়সাশ্রয়ী ও কম উত্তেজনাকর হবে।
প্রতিটি পরিষদে একজন চেয়ার বা মেয়র থাকবেন, একজন স্পিকার থাকবেন, একজন বিরোধী দলীয় নেতা থাকবেন। ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার জন্য কমপক্ষে ৫ জন ও সর্বোচ্চ ১০ জন মন্ত্রীর মতো চেয়ার পরিষদ থাকবেন। এছাড়া পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার জন্য যথাক্রমে কমপক্ষে ১০ জন ও সর্বোচ্চ ২০ জন এবং কমপক্ষে ২০ জন ও সর্বোচ্চ ৩০ জন মন্ত্রীর মতো মেয়র পরিষদ থাকবেন। এছাড়া স্পিকার নির্বাচিত হবেন যে দল সমগ্র পরিষদে সর্বোচ্চ ভোট পাবে তার ভিত্তিতে দল কর্তৃক মনোনীত একজন প্রার্থী; তিনি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন না।
একটি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড কমপক্ষে ৫০০ জন ও সর্বোচ্চ ৫৫০ জন ভোটার নিয়ে গঠিত হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে কমপক্ষে ২১টি ও সর্বোচ্চ ৪৫টি এলাকাভিত্তিক ওয়ার্ড থাকবে। ওয়ার্ড সংখ্যা যদি ৪৫-এর বেশি হয় অর্থাত্ ভোটার সংখ্যা ২৩ হাজারের বেশি হলে ইউনিয়নটিকে দ্বিখণ্ডিত করে ২টি ইউনিয়নে রূপান্তর করতে হবে। এছাড়া গ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড ১০০০ ভোটার, খ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড ২০০০ ভোটার ও ক শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড ৩০০০ ভোটার নিয়ে গঠিত হবে—প্রতিটি পৌরসভায় কমপক্ষে ২১টি এলাকাভিত্তিক ওয়ার্ড থাকতে হবে। খ শ্রেণির সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড ৫০০০ ভোটার ও ক শ্রেণির সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড ১০০০০ ভোটার নিয়ে গঠিত হবে। প্রতিটি সিটি করপোরেশনে কমপক্ষে ২১টি এলাকাভিত্তিক ওয়ার্ড থাকতে হবে।
স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীসহ সকলের অংশগ্রহণের জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ অথবা পৌরসভা অথবা সিটি করপোরেশনে সাধারণ সদস্যর মতো সংরক্ষিত মহিলা সদস্য, সংরক্ষিত ধর্মীয় সংখ্যালঘু সদস্য ও সংরক্ষিত ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সদস্য থাকবে। তিন সাধারণ সদস্য এলাকা নিয়ে একটি সংরক্ষিত মহিলা আসন গঠিত হবে, এই আসনে নির্বাচনের জন্য পৃথক ব্যালটের প্রয়োজন হবে না। সাধারণ আসনের তিনটি ওয়ার্ডের ভোটের যোগফলের ভিত্তিতেই সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য নির্বাচিত হবেন।
স্থানীয় পরিষদের আওতায় থাকবে কৃষি, সমবায়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, মাধ্যমিক শিক্ষা, গ্রাম্য আদালত, অর্থ, রাজস্ব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, জনস্বাস্থ্য, ধর্ম ও ধর্মীয় শিক্ষা, ভোকেশনাল শিক্ষা, শিল্প, বাণিজ্য, পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, শ্রম, কর্মসংস্থান, তথ্য, সংস্কৃতি, পল্লি/পৌর/সিটি উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল প্রভৃতি দপ্তর। প্রতিটি দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চেয়ার বা মেয়র পরিষদ নির্বাচন করতে হবে।
পটুয়াখালী
