কোভিডকালীন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২১, ১৮:৫৪

  মো. রহমত উল্লাহ্

সুপ্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ,

আশা করি ভালো আছ সবাই। তোমরা যারা ২০২১ সালের উচ্চমাধ্যমিক তথা এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষা দেওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছ তাদের জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা। নিশ্চয়ই তোমরা জেনেছ যে, পরীক্ষার বিষয়ে তোমাদের অপেক্ষার শীঘ্রই অবসান হতে যাচ্ছে। সমপ্রতি শিক্ষামন্ত্রী সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তোমাদের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার বিষয়ে। তিনি বলেছেন, (ক) কোভিড-১৯ পরিস্থিতি অনুকূল হলে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে আগামী ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে তোমাদের সরাসরি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সেক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের আলোকে গ্রুপভিত্তিক তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ের পরীক্ষা হবে। সেই পরীক্ষায় সময় ও নম্বর হ্রাস করা হবে। প্রতি পত্রে ৫০ নম্বর করে পরীক্ষা হবে। সেই ৫০ নম্বরকে আবার ১০০ নম্বরে কনভার্ট করা হবে।

আবশ্যিক বিষয়সমূহের উপর কোনো পরীক্ষা হবে না। তোমাদের জেএসসি বা সমমান এবং এসএসসি বা সমমান এ দুটি পরীক্ষার যৌথ ফলাফলের ভিত্তিতে আবশ্যিক বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হবে। অর্থাত্ আবশ্যিক বাংলা, ইংরেজি, ও আইসিটি এই ৩টি বিষয়ের জন্য জেএসসি বা সমমান এবং এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর যৌথভাবে (কম-বেশি হারে) বিবেচনা করা হবে।

অত:পর, ৩টি নৈর্বাচনিক বিষয়ে অনুষ্ঠেয় পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর এবং ৩টি আবশ্যিক বিষয়ের জন্য জেএসসি বা সমমান ও এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলাফল থেকে অর্জিত নম্বর একসঙ্গে সমন্বয় করে মোট/চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করা হবে।

(খ) অতিমারি কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে সরাসরি পরীক্ষা গ্রহণ সম্ভব না হলে তোমাদের জেএসসি বা সমমান এবং এসএসসি বা সমমান  পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে আবশ্যিক বাংলা, ইংরেজি ও আইসিটি এই ৩টি বিষয় মূল্যায়ন করা হবে। সেইসাথে গ্রুপভিত্তিক নৈর্বাচনিক  ৩টি বিষয়ের অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রমের মূল্যায়ন সমন্বয় করে মোট/চূড়ান্ত ফলাফল তৈরি করা হবে।

(গ) কোন অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে পরীক্ষা গ্রহণ করা ও অ্যাসাইনমেন্টের মূল্যায়ন বিবেচনা করা সম্ভব না হলে শুধুমাত্র জেএসসি বা সমমান এবং এসএসসি বা সমমান এ দুটি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে আবশ্যিক ৩টি বিষয় মূল্যায়ন করে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করা হবে।

লক্ষণীয় যে, আবশ্যিক ৩টি বিষয়ের কোনো পরীক্ষা বা অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম হবে না। চতুর্থ বিষয় হিসেবে কোনো বিষয় থাকবে না। ৩টি নৈর্বাচনিক বিষয় পরীক্ষার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে বা অ্যাসাইনমেন্টের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে অথবা মূল্যায়নের বাইরে রাখা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেছেন যে, তোমরা যারা অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম ভালোভাবে সম্পাদন করবে তারা চূড়ান্ত পরীক্ষায় অবশ্যই ভালো ফলাফল করবে। আশা করি ৩টি মাত্র নৈর্বাচনিক  বিষয়ের ৩০টি অ্যাসাইনমেন্ট তোমরা ভালোভাবে সম্পাদন করতে পারবে। অ্যাসাইনমেন্টের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর গুলো খুব ভালোভাবে স্টাডি করতে হবে। মনে রাখতে হবে যদি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় তো এই ৩০টি অ্যাসাইনমেন্ট থেকেই পরীক্ষায় প্রশ্ন থাকবে। অর্থাত্ ভালোভাবে অ্যাসাইনমেন্ট করা মানেই চূড়ান্ত পরীক্ষার ভালো প্রস্তুতি নেওয়া। চূড়ান্ত পরীক্ষায় অন্যান্য বারের মতোই বেশি সংখ্যক প্রশ্ন থাকবে কিন্তু এবার খুবই কম সংখ্যক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। সুতরাং অ্যাসাইনমেন্ট গুলো ভালোভাবে করা থাকলে কোন প্রশ্ন আনকমন হবার সম্ভাবনা থাকবে না। নির্ধারিত অ্যাসাইনমেন্ট গুলো বারবার স্টাডি করে ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে। বারবার পড়তে হবে মূলবই। মনে রাখতে হবে বিভিন্ন নাম, তারিখ, স্থান, সুত্র, সংজ্ঞা, কোটেশন, বিক্রিয়া, সমীকরণ, বৈজ্ঞানিক নামসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনলাইনে নিয়ে নিতে হবে শিক্ষকগণের সহযোগিতা।

লেখক, সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ এবং অধ্যক্ষ, কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

               

                পরের অংশ আগামী শনিবার