>> জসীম উদ্দিন
বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা বাড়লেও কিছুটা বাধার মুখে পড়লেই অনেকে সব ছেড়ে ছুটছেন অন্য পেশায়। অবশ্য যারা এই বাধা অতিক্রম করাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেন, তারা সাহস হারান না। তারাই একদিন সফল উদ্যোক্তা হন। তবে নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে দেখতে প্রয়োজন সৃজনশীল মনোভাব, নেতৃত্বের ক্ষমতা এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষার। আর সব জেনেই ‘মল্লিক গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজ’র পরিচালক আয়াজ নাসিম বেছে নিয়েছেন এই পথ। তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যবসায়কে তুলে ধরছেন নানান আঙ্গিকে। অবশ্য পূর্ব-প্রজন্মের অর্জিত সাফল্যের সঙ্গে ৩য় প্রজন্মের সাফল্যে রয়েছে বিশাল ব্যবধান। আয়াজ নাসিমের নতুন আইডিয়ার সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহার, ব্যবসায়কে নিয়ে গেছেন বিশ্বব্যাপী। কোম্পানির পণ্যসামগ্রী এখন রপ্তানি করছেন বিভিন্ন দেশে। মাত্র পাঁচ বছরে কোম্পানি টার্ন-অভার হয়েছে প্রায় চারগুণ বেশি। ব্যবসায়ের শুরুটা ভোগ্যপণ্য দিয়ে হলেও ২০১৬ সালে পেপার-মিলসহ আরও কিছু পণ্য যুক্ত করেন। তাদের রপ্তানিকৃত পণ্য হচ্ছে পাট, পাটের বস্তা, কাপড়, ব্যাগ আর সুতাসহ পেপার-মিলের রাইটিং, প্রিন্টিং অফসেট পেপার। এসব ভারত, রাশিয়া, ইউএসএ, দুবাইসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রে রপ্তানি হচ্ছে। শিগগিরই আটা-ময়দাসহ সিমেন্ট রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে। তার ব্যবসায়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে প্রতিটি পণ্যই পরিবেশবান্ধব। সেইসঙ্গে পাট দিয়ে পলিথিন তৈরির ইনোভেশনেও কাজ করে যাচ্ছেন তারা। বর্তমানে তার মিলগুলোতে চার হাজারের মতো কর্মী কাজ করছে। আয়াজের লক্ষ্য আগামী বছরের মধ্যে এ সংখ্যা ১০ হাজার করা। পাবনায় তিনি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি বিদ্যালয় নির্মাণ করেছেন। তার মতে, নতুন ইনোভেশন না থাকলে ব্যবসায় হবে না—এটা সব ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
