বিষমুক্ত সবজির গ্রাম বির্তুল

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২১, ২১:৪৪

কালীগঞ্জের কাঁকরোল যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) সংবাদদাতা

গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নসংলগ্ন বালু নদীর কূল ঘেঁষে একটি গ্রাম বির্তুল। গ্রামটি বিষমুক্ত সবজির জন্য খুবই সুপরিচিত। সব মৌসুমেই সব ধরনের সবজির চাষ হয় এ গ্রামে। এই গ্রামের বিষমুক্ত সবজি কৃষকরা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে রপ্তানি করছেন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর বাজার দখল করে রেখেছে বির্তুল গ্রামের কাঁকরোল। এতে একদিকে যেমন ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন কৃষক অন্যদিকে এ গ্রামের কাঁকরোলের সুনাম ছড়িয়ে পড়ছে।  আবার বৈদেশিক মুদ্রাও আয় হচ্ছে।

কাঁকরোল চাষের জন্য পাঁচ ফিট উঁচু বাঁশের খুঁটির সঙ্গে সুতার বুননে তৈরি হয় মাচা। মাটিতে কাঁকরোলের মূল লাগিয়ে দিলে লতানো ডগা মাচায় গিয়ে বিস্তার লাভ করে। আর এর ফাঁকে ফাঁকে ছিটানো জৈব সারে কাঁকরোল গাছ পরিপক্ব হয়ে ফল দিতে শুরু করে। তবে মাসখানেকের মধ্যেই একটি কাঁকরোল গাছ ফল দিতে শুরু করে। কথা হয় বির্তুল গ্রামের কৃষক ষাটোর্ধ্ব আব্দুল লতিফ মোল্লার সঙ্গে। তিনি প্রতিবছর এক বিঘা জমিতে কাঁকরোলের আবাদ করেন। এতে তিনি আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হচ্ছেন বলে জানান। তিনি আরো জানান, তার একটি মাছের খামারও রয়েছে।

একই গ্রামের আরেক কৃষক নীল কমল চন্দ্র দাস (৩২) জানান, তিনি সিঙ্গাপুর প্রবাসী ছিলেন। তিন বছর প্রবাস জীবন অতিবাহিত করার পর গত বছর দেশে ফিরে করোনা পরিস্থিতির কারণে আর সিঙ্গাপুর যেতে পারেননি। তিনি প্রায় এক বিঘা জমিতে চাষ করেছেন কাঁকরোল। খরচ করেছেন ২৫ হাজার টাকা। প্রতি কেজি ২৮/৩০ টাকা দরে বিক্রি করে এরই মধ্যে তিনি তার টাকা উঠিয়ে ফেলেছেন। যদি অতিরিক্ত বর্ষা না হয় তা হলে তিনি ১ থেকে দেড় লাখ টাকা আয় করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

কৃষক নীল কমল চন্দ্র দাস আরো জানান, তার গাছের কাঁকরোল রপ্তানি হচ্ছে মধ্যপ্রচ্যের বিভিন্ন দেশে। তিনি কাঁকরোলকে দুটি গ্রেডে ভাগ করেন। গ্রেড-এ এবং গ্রেড-বি। গ্রেড-এ-এর কাঁকরোল রপ্তানিকারকরা বাড়িতে এসে নিয়ে যান। আর গ্রেড-বি-এর কাঁকরোল স্থানীয় পাইকাররা কিনে নেন। নীল কমলের ইচ্ছা আগামীতে আরো বেশি পরিমাণ জায়গায় তিনি কাঁকরোলের চাষ করবেন।

রপ্তানিকারক মো. শরীফ সরকার জানান, তিনি প্রায় আট বছর যাবত্ এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আগে তিনি এই বর্তুল গ্রাম থেকে বরবটি ও লাউ রপ্তানি করতেন। কিন্তু বর্তমানে কাঁকরোলের চাহিদা এবং দাম ভালো পাওয়ায় তিনি শুধু কাঁকরোলই রপ্তানি করছেন।