আবার রূপালি পর্দায়

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২১, ২০:২০

রে জা উ ল  ক রি ম  খো ক ন

 

গত বছর নতুন প্রজন্মের সম্ভাবনাময় অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের আত্মহত্যার বেদনাদায়ক অপ্রত্যাশিত ঘটনার পর ভারতজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। বলিউডেও দারুণ চাঞ্চল্য, অস্থিরতা ও ক্ষোভ দানা বেঁধেছিল।  একজন উদীয়মান তারকার আকস্মিক প্রস্থান সবাইকে হতবাক করেছিল। সেই  ঘটনার পর অনেক অভিযোগ আর ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন সুশান্তের প্রেমিকা হিসেবে পরিচিত বলিউডের উঠতি অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী। সুশান্তের পরিবারের এবং অন্যান্য আরো অনেকের নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে পুলিশ আটক করে। মাদক গ্রহণে প্ররোচিত করা এবং নিজে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হলেও শেষ পর্যন্ত জামিনে মুক্তি পেয়ে গেছেন এই বাঙালি তন্বী অভিনেত্রী। যখন রিয়া সুশান্ত সিং রাজপুতের আত্মহত্যার ঘটনায় বিভিন্নভাবে অভিযুক্ত হন তখন নির্মাণাধীন ‘চেহরে’ ছবির কাজ করছিলেন। অমিতাভ বচ্চন, ইমরান হাশমির মতো বলিউড তারকাদের সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়াটা ছিল তার ক্যারিয়ারে বড় একটি প্রাপ্তি। এ ছবিটি মুক্তির পর অভিনয় জীবনের মোড় ঘুরে যাবে— তেমন একটি বিশ্বাস জেগেছিল রিয়ার মনে। কারণ, ২০১৩ সাল থেকে বলিউডে অভিনেত্রী হিসেবে পথচলা শুরু করলেও বড় মাপের কোনো ছবিতে কিংবা নামি দামি প্রতিষ্ঠিত তারকা অভিনেতার বিপরীতে অভিনয়ের সুযোগ হয়নি। সে হিসেবে ‘চেহরে’ ছবিটি রিয়ার ক্যারিয়ারে বড় একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আগাম ধারণা করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু আচমকা সুশান্ত সিং রাজপুতের আত্মহত্যার ঘটনা যেন সব কিছুই এলোমেলো করে দেয়। বাঙালি পরিবারের মেয়ে রিয়ার জন্ম বাঙালোরে। সেনা কর্মকর্তা পিতার চাকরিসূত্রে ভারতের বিভিন্ন শহরের স্কুল কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন ছোটপর্দায় ‘টিন ডিভা’ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল। এরপর এমটিভিতে একজন ডিজে হিসেবে মনোনীত হন রিয়া। বেশকিছু টিভি শো উপস্থাপনার সুবাদে শো বিজে পরিচিতি পেয়ে যান। ২০১২ সালে দক্ষিণী সিনেমার অঙ্গনে তেলেগু ছবি ‘তুনেঙ্গা তুনেঙ্গা’র মাধ্যমে রূপালি পর্দায় অভিনেত্রী হিসেবে অভিষেক হয় তার। এর পরের বছর ‘মেরে ড্যাড কি মারুতি’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি সিনেমার অঙ্গনে পথ চলা শুরু করেছিলেন। তারপর ‘সোনালী ক্যাবল’, ‘ব্যাংক চোর’, ‘হাফ গার্লফ্রেন্ড’, ‘দোবারা : সি ইয়্যুর ইভিল’ এবং ‘জালেবি’ ছবিগুলোতে তাকে দেখা যায় ছোট-বড় সবধরনের চরিত্রে। এর মধ্যে ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘জালেবি’ ছবিতে প্রধান নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেন রিয়া। এ ছবিটি ছিল কলকাতায় নির্মিত সাড়া জাগানো বাংলা ছবি ‘প্রাক্তন’র হিন্দি রিমেক। দুর্ভাগ্যজনকভাবে রিয়া অভিনীত ‘জালেবি’ বক্স অফিসে সাড়া জাগাতে ব্যর্থ হয়। এ ছবিটি নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিত্রনির্মাতা মহেশ ভাটের সঙ্গে অসম ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন ২৯ বছর বয়সী এই তরুণ। বয়সের বিস্তর ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও মহেশ ভাট-রিয়ার মাখামাখিতে বলিউডের অনেকেই ভ্রু কুঁচকে ছিলেন। যদিও এ নিয়ে তার মধ্যে তেমন মাথাব্যথা ছিল না। অনেকটাই ডেমকেয়ার ভাব নিয়ে নিজেকে উপস্থাপনের চেষ্টা ছিল তার। রিয়া বলিউডে নিজেকে অনেক দূর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার সুন্দর স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার ধারণা ছিল, ক্যারিয়ারের স্বার্থে নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার উদার মনোভাব, দুর্দান্ত যৌবন, আকর্ষণীয় ফিগার, শারীরিক আবেদন, সুন্দর চেহারা সবকিছুকে কাজে লাগিয়ে একের পর এক সাফল্যের সিঁড়ি টপকে পৌঁছে যাবে অভিষ্ট লক্ষ্যে। কিন্তু রিয়ার স্বপ্ন হঠাত্ হারিয়ে গেছে, দুঃস্বপ্নেরা হানা দিয়ে তছনছ করে দিয়েছে সবকিছু। অনেকগুলো মাস তাকে দারুণ সংকটের মধ্যে পার করতে হয়েছে। ‘চেহরে’ ছবির পোস্টারে প্রথমদিকে নায়িকা হিসেবে রিয়া চক্রবর্তীর উপস্থিতি না থাকলেও সম্প্রতি এ ছবির ট্রেলার, টিজারে তাকে দেখা গেছে। তার কারণে অনেক দর্শক ‘চেহরে’ ছবিটির ব্যাপারে বিশেষভাবে কৌতূহলী হয়েছেন। বহুল আলোচিত, বিতর্কিত সেই অভিনেত্রী রিয়াকে রূপালি পর্দায় দেখার প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছেন তারা। এ সপ্তাহে রিয়া অভিনীত ‘চেহরে’ ছবিটি ভারতের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে। বেশ কয়েক বছর বিরতির পর আবার রূপালি পর্দায় তার ফিরে আসাটা স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন বলিউডে। দেখা যাক, এবার তার জন্য কী অপেক্ষা করছে।