মসজিদ, মন্দিরের পাশাপাশি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য প্যাগোডাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রসারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে বৌদ্ধ অধ্যুষিত ১২টি জেলার ৬২টি উপজেলার প্যাগোডায় শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। বৌদ্ধ শিশুদের জন্য ধর্ম ও নৈতিকতাভিত্তিক শিক্ষা চালু করতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকার শিক্ষা সুবিধাবঞ্চিত বৌদ্ধ শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক ও নৈতিকতা শিক্ষা প্রদানের কথা বিবেচনা করে এবং বিহারগুলোর প্রায়োগিক গুরুত্ব অনুধাবন করে প্যাগোডাগুলোকে শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এ জন্য ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্যাগোডাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্প (২য় পর্যায়) বাস্তবায়ন করবে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটি গত মাসে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৫ থেকে ২০১৭ মেয়াদে তিন বছর এর প্রথম পর্যায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যা বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর মধ্যে উত্সাহ সৃষ্টি করেছে। এবার চলতি বছর থেকে পরবর্তী তিন বছরের জন্য প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো ব্যাপক ভিত্তিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৫টি জেলা অফিস প্রতিষ্ঠা করা হবে। সে সাথে ৩১০ জন খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে, যার ৮০ ভাগ হবেন নারী। দেশের বৌদ্ধ অধ্যুষিত নির্বাচিত জেলা চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বরগুনা, পটুয়াখালী, রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলায় ৩শটি প্যাগোডা প্রাঙ্গণে ৩শটি শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে প্রতিবছর ছয় হাজার করে তিন বছরে মোট ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর প্রাক-প্রাথমিক ও নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়া হবে। সে সাথে শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
প্রসঙ্গত, বৌদ্ধ সম্প্রদায় বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম জনগোষ্ঠী। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুয়ায়ী বাংলাদেশের বৌদ্ধ জনসংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৮৯ হাজার ৬শ জন। দেশে বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার বৌদ্ধ বিহার রয়েছে। এ বিহারগুলো বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্ম চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। এ বিহারগুলো ব্যবহারের মধ্যেমে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মাঝে শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব হতে পারে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।
