নেয়ামত উল্লাহ
আত্মীয় পরিজন ও অনুরাগীদের প্রার্থনাকে ভুল প্রমাণ করে শেষ পর্যন্ত সাগরতল থেকে লাশ হয়েই বেরিয়ে এলেন এমিলিয়ানো সালা। তাকে বহনকারী বিমানের ধ্বংসাবশেষে অজ্ঞাতনামা লাশ মেলার একদিন পর এটি আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের বলে নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ডের ডরসেট পুলিশ।
এমিলিয়ানো সালা ২১ জানুয়ারি ছোট বিমানে চড়ে সাবেক ক্লাব নান্তেজ থেকে নতুন গন্তব্য ইংলিশ ফুটবলের দ্বিতীয় বিভাগের দল কার্ডিফে আসছিলেন। পথিমধ্যে ইংলিশ চ্যানেলে নিখোঁজ হয় বিমানটি। প্রাথমিক উদ্ধার অভিযানের পরিত্যক্তের পর তার এজেন্টের আবেদনে তহবিল জোগাড়ের পর আবার অনুসন্ধান শুরু হয়। এরপরই ইংলিশ চ্যানেলে সাগরতলে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ মেলে। সেখানে থাকা লাশটি ২৮ বছরের সালার বলে জানা যায় পরে।
স্বদেশী গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতাকে আদর্শ মেনে ফুটবলে আসা এই ফরোয়ার্ড মাঠে বেশ শক্তিশালী, বিপক্ষ গোলমুখে শিকারী বাজের মতো হলেও ব্যক্তি জীবনে ছিলেন এর ঠিক বিপরীত। গোয়েন্দা উপন্যাসের দারুণ ভক্ত সালা প্রতিপক্ষের মাঠে খেলতে গেলে কখনোই একটি বই ছাড়া যেতেন না। ক্যাফের বাইরের টেবিলে সালা বই পড়ছেন আর তার পোষা ল্যাব্রাডর কুকুর নাজ তার পায়ের কাছে কুণ্ডলী পাকিয়ে শুয়ে আছে, কিছুদিন আগেও নান্তেসের সকালে এটা ছিল পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু নিয়তি কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে সালাই তার প্রমাণ। ইংলিশ খেলোয়াড় জ্যামি ভার্ডির সাথে তুলনা টানা যেতে পারে তার। ভার্ডির মতোই বড় এলাকাজুড়ে খেলা এবং শক্তিশালী পাল্টা আক্রমণ নির্ভর দলের একজন ছিলেন তিনি। সজীব ও হালকা পাতলা গড়নের কিন্তু লড়াকু ও নির্ভরযোগ্য, ঠিক সত্যিকারের দক্ষিণ আমেরিকান যোদ্ধাদের মতো।
মাত্র ২০ বছরের সময় ফরাসি ক্লাব বোর্দোতে যোগ দেন। ধারাবাহিকতা না থাকায় তাকে ২০১২-১৩ মৌসুমে ধারে ফরাসি দ্বিতীয় বিভাগের দল অর্লিন্সে পাঠায় ক্লাবটি। পরের মৌসুমে ধারে খেলতে যান নিরোতে। খেলার ধরনের কারণে এখানেও সমর্থকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন সালা, পেয়ে যান ‘স্থানীয় কার্লোস তেভেজ’ উপাধি। ২০১৫ সালে লিগ ওয়ানের দল কায়েনে ধারে অর্ধেক মৌসুম কাটিয়েছিলেন। এই বছরেই তাকে কিনে নেয় নান্তেস। এখানেও শুরুতে ধারাবাহিক ছিলেন না তিনি।
কিছুটা দেরিতে হলেও অবশেষে নতুন কোচ ভাহিদ হালিলহোদজিচের অধীনে নান্তেসে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন সালা। আগের দুই মৌসুমে ১৫ ও ১৪ গোল, এবার মাত্র ১৯ ম্যাচেই ১২বার লক্ষ্যভেদ। এমন পারফর্মেন্স আর খেলার ধরন ইংলিশ ফুটবলের নজরে নিয়ে এসেছিল তাকে। স্ট্রাইকারটিকে পেতে নান্তেসকে ১৮ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দেয় কার্ডিফ সিটি যা ফেরানো কঠিনই ছিল ফরাসি ক্লাবটির জন্য। এর আগে গ্যালাতাসারায়ের কাছে বেচতে চাইলেও সালার আপত্তিতে তা সম্ভব হয়নি। কার্ডিফের প্রস্তাবেও শুরুতে সম্মত ছিলেন না ফরোয়ার্ডটি। কিন্তু নান্তেসের সভাপতি বড় অংকের প্রস্তাব হাতছাড়া করতে রাজি ছিলেন না। সঙ্গত কারণেই ইংল্যান্ডে পাড়ি জমাতে বাধ্য হন সালা।
তার সাবেক ক্লাব কায়েনের সতীর্থ ফেলিপে সাদ জানান কার্ডিফ যাত্রার মাধ্যমে দেরিতে হলেও প্রাপ্য স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছিলেন তিনি। সাদের মতে, ‘দারুণ প্রতিভাবান ছিলেন তিনি, ফলে এই স্বীকৃতিটা পাওনাই ছিল তার।’
কার্ডিফে চুক্তি স্বাক্ষরের পর গুরু সতীর্থদের বিদায় জানাতে আবার নান্তেসে এসেছিলেন সালা। কিন্তু সালা যে আসলে কার্ডিফে নয় নিয়তির ডাকেই সমর্পিত হতে বিমানে চেপেছিলেন।
