ইত্তেফাক রিপোর্ট
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে আওয়ামী লীগ। এমপি ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রে সহস াধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগ যাচাই করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের। জেলা-উপজেলা নেতাদের বিরুদ্ধে ত্যাগী ও যোগ্যদের বাদ দিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে অযোগ্য ও বিতর্কিত এবং নিজেদের পছন্দের কিংবা আত্মীয়-স্বজনকে প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রে নাম পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। কারো কারো বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যেরও অভিযোগ এসেছে। সবমিলিয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইকে ঘিরে তৃণমূলের প্রায় সর্বত্র অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল দেখা দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে তৃণমূলের অভিযোগগুলো তুলে ধরা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জানা গেছে, চূড়ান্ত মনোনয়নের আগে তৃণমূলের প্রস্তাব, তৃণমূলের অভিযোগ এবং তিনটি সংস্থার সার্ভে রিপোর্ট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হবে। তবে তৃণমূলের সহস াধিক অভিযোগ যাচাই করাই মনোনয়ন বোর্ডের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় আওয়ামী লীগ দল মনোনীত প্রার্থীর বাইরে বিকল্প প্রার্থীও রাখার চিন্তা-ভাবনা করছে। স্বতন্ত্র বা বিকল্প প্রার্থী থাকলে নির্বাচন জমে উঠবে এই চিন্তায় বিকল্প প্রার্থীর ব্যাপারে উপজেলা নির্বাচনে নমনীয় থাকার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত। কিন্তু বিকল্প-স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলে নির্বাচন জমে উঠলেও সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ব্যাপকভাবে বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, চেয়ারম্যান পদে তৃণমূল থেকে পাঠানো প্রার্থী তালিকায় যাদের নাম আসবে তারাই কেবল দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র তুলতে পারবেন। তৃণমূল থেকে নাম আসেনি, এমন কাউকে দলীয় মনোনয়নপত্র দেওয়া হবে না। এর কয়েক দিন পর দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, উপজেলা নির্বাচনে শুধু চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে। ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। সবার জন্য উন্মুক্ত রেখে এই দুই পদে নির্বাচন হবে। দলের দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে গত সোমবার আরেক বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের জানান, উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়া হবে। আগ্রহীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। সর্বশেষ মনোনয়নপত্র বিক্রির দ্বিতীয় দিন দুটি সিদ্ধান্তই পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগ। ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ওবায়দুল কাদের বলেন, উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তৃণমূল থেকে নাম না এলেও মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করতে পারবেন প্রত্যাশীরা। জানা গেছে, মনোনয়ন নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হলো, মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীদের অসংখ্য অভিযোগ, যার মধ্যে ত্যাগী ও যোগ্যদের বাদ দিয়ে স্থানীয় এমপি অনুগতদের নাম পাঠানোর অভিযোগ অন্যতম।
মনোনয়নে গুরুত্ব পাবে ৬টি বিষয়
জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে ৬টি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এগুলো হলো, উপজেলা নির্বাচনে যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী, তাকে অন্তত বারো বছর আওয়ামী লীগ করতে হবে। যিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী তার কোনো নিকটাত্মীয় বা স্ত্রী জাতীয় সংসদের সদস্য হতে পারবে না। তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি, ঋণ খেলাপি বা সন্ত্রাস কিংবা জঙ্গিবাদের মামলা থাকা চলবে না। তিনি অতীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন বা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন- এমন কোনো ব্যক্তি মনোনয়ন পাবেন না। চূড়ান্ত মনোনিত ব্যক্তি হবেন সত্ ও জনপ্রিয় এবং উইনেবল।
