ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে আবু নাছের আল দুসারী (৪৫) নামে এক সৌদি নাগরিকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার লাশ গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের ডৌহাখলা গ্রামের আবু সাইদ সানির বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। সানিকে পুলিশ আটক করেছে।
আবু সাইদ সানির ভাষ্যমতে, আবু নাছের একজন ভিসা ব্যবসায়ী। ২০ বছর আগে ঢাকার গুলশানের একটি হোটেলে আবু নাছেরের পরিচয় হয়। সেই থেকে আমরা ভালো বন্ধু এবং সে প্রায়ই আমার বাড়িতে অবকাশ যাপনের জন্য আসতো।
বৃহস্পতিবার দুপুরবেলা খাবার খেয়ে আবু নাছের বিছানায় ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু রাত হয়ে গেলেও সে ঘুম থেকে না ওঠায় আমি ডাকাডাকি করেও জাগাতে পারিনি। আমি চিত্কার করলে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে। কিন্তু আমার বন্ধু নাছের নিথর হয়ে তখন পড়ে থাকে। গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আবু নাছেরের পাসপোর্ট সূত্রে জানা গেছে তিনি সৌদি আরবের দাম্মাম নগরীর বাসিন্দা। তার বাবার নাম-ফালেহ। আমরা আবু নাছেরের মৃত্যুর কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তদন্ত শেষ না করে মৃত্যুর কারণ বলা যাচ্ছে না। মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা গ্রামের করম আলীর পুত্র আবু সাঈদ সানির সঙ্গে প্রায় ২০ বছর পূর্বে ঢাকায় পরিচয় ঘটে সৌদি নাগরিক আবু নাছের আল দুসারীর। এ পরিচয়ের সূত্র ধরেই আবু নাছের আল দুসারী অবকাশ যাপনের জন্য গৌরীপুরের ওই বাড়িতে আসতেন। হলি আর্টিজেনে হামলা সংক্রান্ত ঘটনায় সারাদেশে বিদেশিদের ওপর নানা বিধি-নিষেধ আরোপ করায় তিনি ওই সময় চলে যান। এলাকার লোকজন জানান, তবে এরপরও প্রায়শ আসতেন এই বাড়িতে। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর সানির বাড়ি ডৌহাখলা গ্রামে আসেন আবু নাসের। এরপর থেকে আবু নাছের আর সানি এক সঙ্গেই থাকতেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা করিম বলেন, আবু নাছেরের মৃত্যুর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সৌদি দূতাবাসকে জানানো হয়েছে। এ দিকে অতিরিক্ত ডিআইজি ড. আক্কাস উদ্দিন ভূইয়া জানান, গৌরিপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের ডৌহাখলা গ্রামের আবু সাইদ সানিকে মাতাল অবস্থায় আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
