আফিম চাষের কী হবে

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২১, ২০:১০

তালেবানের শাসনে আফগানিস্তান

তালেবান দাবি করে আসছে, তারা যখন গতবার আফগানিস্তানে ক্ষমতায় ছিল, তখনই আফিম চাষ বন্ধ করেছিল। তালেবান যে বছর উত্খাত হয়েছিল, সেই ২০০১ সালে আফিম চাষ বেশ কমলেও তার পরের বছরগুলোতে তা আবার বাড়তে থাকে

 বিবিসি

তালেবান দাবি করে আসছে, তারা যখন গতবার আফগানিস্তানে ক্ষমতায় ছিল, তখনই আফিম চাষ বন্ধ করেছিল। তালেবান যে বছর উত্খাত হয়েছিল, সেই ২০০১ সালে আফিম চাষ বেশ কমলেও পরের বছরগুলোতে তা আবার বাড়তে থাকে। কিন্তু বর্তমানে তালেবান আবার ক্ষমতায় এসেছে। তাই এ অবস্থায় আফিম চাষের ভবিষ্যত্ কী হবে সঙ্গত কারণেই সেই প্রশ্নের জন্ম দেয়।

পপি গাছের ফল থেকে পাওয়া নির্যাস আফিম থেকে বেশ কিছু মাদক তৈরি হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিচিত হল হেরোইন। বিশ্বে আফগানিস্তানেই সবচেয়ে বেশি আফিম চাষ হয়। সারা বিশ্বের মোট উত্পাদনের ৮০ ভাগই এই দেশটি থেকে আসে বলে তথ্য জাতিসংঘ মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমন সংস্থা ইউএনওডিসির। আফগানিস্তানের অর্থনীতিতে ১১ শতাংশ অবদান এই আফিমের বলেও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে জাতিসংঘ সংস্থাটি থেকে। পপি গাছের ফল থেকে পাওয়া নির্যাস আফিম থেকে বেশ কিছু মাদক তৈরি হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিচিত হল হেরোইন। বিশ্বে আফগানিস্তানেই সবচেয়ে বেশি আফিম চাষ হয়। সারা বিশ্বের মোট উত্পাদনের ৮০ ভাগই এই দেশটি থেকে আসে বলে তথ্য জাতিসংঘ মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমন সংস্থা ইউএনওডিসির।

আফগানিস্তানের অর্থনীতিতে ১১ শতাংশ অবদান এই আফিমের বলেও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে জাতিসংঘ সংস্থাটি থেকে। তাই ঘুরে ফিরে দেশটিতে আফিম চাষ বন্ধ হবে কি হবে না এ নিয়ে নানা মহলে কথাবার্তা উঠছে। অবশ্য এ ব্যাপারে তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা যখন ক্ষমতায় ছিলাম, তখন কোনো মাদকের চাষ হত না। আমরা আবারও আফিম চাষ শূন্যে নামিয়ে আনব।’ কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দেওয়া তথ্যে মাঠের এ চিত্র তা বলছে না। তাতে দেখা যায়, তালেবান শাসনের শুরুতে আফিম চাষ বেড়েছিল। ১৯৯৮ সালে যেখানে ৪১ হাজার হেক্টর জমিতে পপি চাষ হচ্ছিল, ২০০০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৪ হাজার হেক্টর।

আর এই আফিম চাষের বেশির ভাগ জমিই তালেবান নিয়ন্ত্রিত হেলমান্দ প্রদেশে। বিশ্বের মোট আফিমের ৩৯ শতাংশের জোগানই আসে এই অঞ্চল থেকে। কিন্তু ২০০০ সালের জুলাই মাসে তালেবান পপি চাষ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তার বেশ ভালো প্রভাব পড়েছিল বলে ২০০১ সালে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনেও স্বীকার করা হয়। ঐ নিষেধাজ্ঞার পর ২০০১ ও ২০০২ সালে বিশ্বে হেরোইন আটকের ঘটনা বেশ কমে গিয়েছিল। তবে এরপর পরিস্থিতি তেমন থাকেনি। ২০০১ সালে তালেবান শাসন অবসানের পর পপি চাষ অন্য সব স্থানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও হেলমান্দ প্রদেশ ছিল ব্যতিক্রম। কাবুল থেকে উত্খাত হলেও তালেবানের নিয়ন্ত্রণে থাকা দক্ষিণ আফগানিস্তানের এই প্রদেশটিতে ২০২০ সালেও অধিকাংশ জমি পপি চাষের জন্যই ব্যবহার হচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফিম চাষের মাধ্যমে তালেবানের তহবিল ভারী হচ্ছে। তারা বলছে, তালেবান ?চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি কর তো নেয়ই, আবার মাদক পাচার থেকেও আয় করে।