বঙ্গোপসাগরে ভাসমান কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন। আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে সময় ও অর্থের বিবেচনায় সাশ্রয়ী এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের অনুমতির অপেক্ষায় দেশি-বিদেশি যৌথ বিনিয়োগকারী উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ও জাহাজ জট এড়িয়ে ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানি ও রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার পরিবহনই মূল লক্ষ্য বলে জানা যায়।
সূত্রে জানা যায়, জাপানি ও বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর যৌথ বিনিয়োগে ২০১৯ সালের ২৩ জুন সরকারের নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে সমুদ্রের মধ্যে ভাসমান কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়। জানা যায়, জাপান অফশোর ডিজাইন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং প্ল্যাটফরম (জেডিইপি) এবং বাংলাদেশের নিউভিশন সলিউশনের যৌথ উদ্যোগে ভাসমান কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ সম্প্রতি সম্পন্ন হয়। এর আলোকে গত কয়েক দিন আগে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের রিপোর্ট নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম বন্দরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়। উক্ত রিপোর্টে সমুদ্রে ভাসমান কনটেন্টইনার টার্মিনাল যেমন সম্ভব। একইভাবে এর দ্বারা কম সময়ে এবং সাশ্রয়ী অর্থে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার পরিবহন সম্ভব বলে উল্লেখ করা হয়। সমুদ্রের মধ্যে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ছাড়াও ঢাকার অদূরে শীতলক্ষ্যা নদী উপকূলে ইনল্যান্ড কনটেইনার নির্মাণের পরিকল্পনার কথা প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পানগাঁও এলাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের নির্মিত কনটেইনার টার্মিনাল ও অন্যান্য বেসরকারি কনটেইনার টার্মিনাল সমুদ্রের ভাসমান টার্মিনালের আমদানি-রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার পরিবহনে ব্যবহার করা যেতে পারে।
জানা যায়, দুটি মাদার নির্দিষ্ট দূরত্বে থেকে ব্রেক ওয়াটারের কাজ করবে। যাতে পণ্যবাহী ছোট-বড় জাহাজ ঢেউয়ের দ্বারা অসুবিধায় না পড়ে। রিপোর্টের তথ্যানুযায়ী ১২ থেকে ১৩ মিটার পর্যন্ত সমুদ্র গভীরতায় অফশোর প্ল্যাটফরম নির্মাণ করা হবে। সিঙ্গাপুর ও কলম্বো থেকে উক্ত গভীরতার কনটেইনারবাহী মাদার ভেসেলসমূহ সরাসরি ওই টার্মিনালে ভেড়ার পর ঐ মাদার ভেসেল থেকে অপেক্ষাকৃত ছোট বা লাইটারেজ কনটেইনার জাহাজ যোগে ঢাকাসহ তত্সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনালে কনটেইনার পরিবহন করা হবে।
প্রকল্পের সমন্বয়কারী এবং নিউভিশন সলিউশনের সিনিয়র ম্যানেজার সামিউল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, তাদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের নিকট সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। সরকার অনুমতি প্রদান করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মো. শাহজাহান ইত্তেফাককে বলেন, বঙ্গোপসাগরে ভাসমান কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করার সুযোগ নেই। উত্তাল সাইক্লোনপ্রবণ বঙ্গোপসাগরে এটা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, ইতিপূর্বে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃক ভাসমান কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য যে অর্থ ব্যয় করেছিল তাও অপচয় করা হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে একটি বিদেশি কোম্পানির মাধ্যমে বন্দর তার নিজস্ব অর্থায়নে ভাসমান কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করেছিল।
