সোনারগাঁওয়ে শাহিদা হত্যা মামলার প্রধান আসামি হাবিবুর রহমান ও শাহনাজকে গ্রেফতার করেছে নারায়ণগঞ্জ পিবিআই। গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সাপেরচর এলাকা থেকে হাবিবুরকে ও ডেমরা থানার সুকুরসি এলাকা থেকে শাহনাজকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা সোনারগাঁওয়ের আলীরচর গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে ও মেয়ে।
গত শুক্রবার গ্রেফতারকৃতদের নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল মহসিনের আদালতে হাজির করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। তাদের দেওয়া তথ্যে প্রধান হাবিবুরের বাড়িতে শুক্রবার অভিযান চালিয়ে চার তলাবিশিষ্ট সাতটি ট্যাটা উদ্ধার করে পিবিআই।
নারায়ণগঞ্জ পিবিআই সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বারদী ইউনিয়নের আলগীরচর গ্রামের সাদেকুর রহমানের সঙ্গে একই এলাকার হাবিবুরের দীর্ঘদিন ধরে জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে ৪ আগস্ট হাবিবুরের নেতৃত্বে ট্যাটা, ছোরা, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ব্যবসায়ী সাদেকুর রহমান ও তার পরিবারের লোকজনের ওপর হামলা করে। হামলায় বাদীর চাচাতো ভাই দেলোয়ার এবং মনিরের দিকে ট্যাটা নিক্ষেপ করলে তারা ট্যাটাবিদ্ধ হয়ে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। হাবিবুর ওরফে হাবিব বাদী সাদেকুর রহমানকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার দিকে ট্যাটা ছুড়ে মারলে ট্যাটাটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বাদীর শ্যালিকা শাহিদার বুকে বিদ্ধ হয়। পরে দুই দিন চিকিত্সাধীন থাকার পর শাহিদা মারা যান। এ ঘটনায় সাদেকুর রহমান সোনারগাঁও থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ এ মামলার অগ্রগতি করতে না পারায় নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের নির্দেশে মামলাটি পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা ছায়া তদন্ত শুরু করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাকিল হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তারা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। প্রধান আসামির বাড়ি থেকে চার ফলাবিশিষ্ট সাতটি ট্যাটা উদ্ধার করা হয়েছে।
