তামিমের বিস্ফোরক সেঞ্চুরিতে কুমিল্লার দ্বিতীয় শিরোপা

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:৫৪

সূর্য ডোবার আগেই শেরেবাংলার গ্যালারি ছেয়ে গিয়েছিল রক্তিম লাল আভায়। ফ্লাড লাইটের কৃত্রিম আলোয় গ্যালারিতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স সমর্থকদের প্রাণের স্পন্দন ভর করলো তামিম ইকবালের ব্যাটে। তার অপ্রতিরোধ্য, খুনে ব্যাটিংয়ে চৌচির হলো ঢাকা ডায়নামাইটস। তামিমের বেপরোয়া, দুর্বিনীত, অবিশ্বাস্য ব্যাটিংই গড়ে দিয়েছিল বিপিএলের ষষ্ঠ আসরের ফাইনালের ভাগ্য। ঢাকা ডায়নামাইটসের রনি তালুকদারের পাল্টা আক্রমণ কিছুটা উত্তেজনার সঞ্চার করেছিল ম্যাচে। শেষ অব্দি তা ঢাকার দুর্গের রক্ষাকবচ হতে পারেনি।

গতকাল বিপিএলের ফাইনালে তামিমের বিস্ফোরক সেঞ্চুরিতে ঢাকাকে ১৭ রানে পরাজিত করে দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতলো কুমিল্লা। চার আসরে দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হলো কুমিল্লা। টানা দ্বিতীয়বার ফাইনাল হারলো ঢাকা। 

প্রথমবার বিপিএল ফাইনাল খেলেই সেঞ্চুরির সঙ্গে ট্রফিও জিতলেন তামিম। তার ব্যাটেই তিন উইকেটে ১৯৯ রানের বড় স্কোর গড়েছিল কুমিল্লা। পরে রনি তালুকদারের ঝড়ো হাফ সেঞ্চুরির পরও ৯ উইকেটে ১৮২ রান করতে সমর্থ হয় ঢাকা। ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির পর ফিল্ডার তামিমও ছিলেন অসাধারণ। সাকিব ও পোলার্ডের দুটি দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়েছেন তিনি। ম্যাচ সেরার পুরস্কারটাও উঠেছে তার হাতে।

গতকাল শেরেবাংলায় তামিমের বিস্ফোরক ব্যাটিং বিনোদিত করেছে দর্শকদের। ওলটপালট করে দিয়েছে রেকর্ড বই। ৫০ বলে সেঞ্চুরি করেছেন এ বাঁহাতি। যা বিপিএল ও টি-২০ ফরম্যাটে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের সবচে দ্রুততম সেঞ্চুরি। বিপিএল-এ তামিমের এটি প্রথম সেঞ্চুরি এবং ফাইনালে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানেরও প্রথম সেঞ্চুরি।

বিপিএলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২২ রান ছিল সাব্বির রহমানের। গতকাল সেটিও টপকে গেছেন অপরাজিত ১৪১ রান করা তামিম। এটি তারও ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। এর আগে সর্বোচ্চ ১৩০ রান ছিল ২০১৩ সালে বিজয় দিবস টি-২০তে। গতকাল দলকে ট্রফি এনে দেয়া মহাকাব্যিক ইনিংসে তামিম মেরেছেন ১০টি চার ও ১১টি ছক্কা। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের টি-২০ সর্বোচ্চ সাব্বিরের মারা ৯ ছক্কার রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন তিনি।

কুমিল্লার ইনিংসটাই ছিল তামিমময়। ৬১ বলে তিনি একাই করেছেন ১৪১ রান। বাকিরা সবাই ৫৯ বলে করেছেন ৫৮ রান! যার কারণেই কুমিল্লার স্কোরটা দুশ ছাড়ায়নি। দ্বিতীয় ওভারেই এভিন লুইসের (৬) বিদায়ের পর বিজয়ের সঙ্গে ৮৯ রানের জুটি গড়েন তামিম। যেখানে বিজয় খেলেছেন বিস্ময়কর ৮০ স্ট্রাইক রেটে ৩০ বলে ২৪ রান। চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক ইমরুল কায়েসের সঙ্গেও তামিমের জুটিটা হয়েছে ১০০ রানের। ইমরুল ৮০ দশমিক ৯৫ স্ট্রাইক রেটে ২১ বলে ১৭ রান করেছেন।

কুমিল্লা ১০ ওভারে রান তুলেছিল ৭৩। পরের ১০ ওভারে এসেছে ১২৬ রান। বলা বাহুল্য, যার কাণ্ডারি তামিম। ৩১ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। কিন্তু তখনও বাকি ছিল আসল ঝড়। কারণ পরের পঞ্চাশ রান করেছেন ১৯ বলে! ১৫তম ওভারে রুবেলের ওপর দিয়ে রীতিমতো টর্নেডো বইয়ে দিলেন তামিম।

দুই চার, দুই ছক্কায় তুলেন ২৩ রান। ১৭তম ওভারে আন্দ্রে রাসেলকে পেটালেন বেধড়ক। অগ্নিমূর্তি ধারণ করা এ বাঁহাতি মারেন দুই ছক্কা, দুই চার। প্রথম চার, ছক্কাতেই পূর্ণ করেছিলেন অনন্য সেঞ্চুরি। শেষ কয়েক ওভারে বিধ্বংসী নাচে মূর্ত হয়েছে তামিমের ব্যাট। ঢাকার পক্ষে রুবেল-সাকিব একটি করে উইকেট পান।  

কুমিল্লার দেয়া ২০০ রানের টার্গেটের পাহাড়সম ছবিটা দৃষ্টিসীমায় নিয়ে এসেছিলেন রনি তালুকদার। শূন্য রানে নারিনের বিদায়ের পর থারাঙ্গার সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ১০২ রানের জুটি গড়েন তিনি। থারাঙ্গার আক্রমণ থামিয়েছেন থিসেরা পেরেরা। ২৭ বলে ৪৮ রান করেন থারাঙ্গা। তারপরই পথ হারাতে থাকে ঢাকা। ১২ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে বসে দলটি। অধিনায়ক সাকিব (৩) ফিরেন ওয়াহাব রিয়াজের বলে। ভরসা হয়ে থাকা রনি রান আউট হন। তিনি ৩৮ বলে ৬৬ রান (৪ চার, ৩ ছয়) করেন। ১৩২ রানে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরেন আন্দ্রে রাসেল (৪)।

ইনিংসের ১৬তম ওভারে তামিমের হাতে ক্যাচ দেন পোলার্ড (১৩)। পরে নুরুল হাসানের ১৮, মাহমুদুল হাসানের ১৫ রানে শুধু হারের ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। কুমিল্লার পক্ষে ওয়াহাব রিয়াজ তিনটি, থিসারা পেরেরা-সাইফউদ্দিন দুটি করে উইকেট নেন।