জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা ও হিন্দিতে দুটি গানের কম্পোজিশন করেছেন বিশ্বখ্যাত সংগীতজ্ঞ এ আর রহমান। গীতিকার জুলফিকার রাসেলের লেখা এবং এ আর রাহমানের সংগীতায়োজনে একটি গান এরইমধ্যে বাজানো হয়েছে প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আয়োজনে। আরেকটি গান শিগগিরই প্রকাশ পাবে। মুজিববর্ষের এই কাজগুলো নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানালেন তিনি—
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর দুটি থিম সং-এ কাজ করেছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাই—
মুজিববর্ষের মতো এত বড় আয়োজনে আমাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এবং কাজটির জন্য বাংলাদেশ থেকে তারা ভারতে এসেছিলেন, এটি আমার জন্য অনেক সম্মানের। ভারত ও বাংলাদেশের সবসময় বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের একটি সাধারণ ভাষা রয়েছে, বাংলা। আমরা একটি বন্ধন ও সংস্কৃতির অংশ।

এ আর রহমান ও গীতিকার জুলফিকার রাসেল। ছবি: সংগৃহীত
কাজটি করার সময় কোন দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রাধান্য দিয়েছেন?
আমি মূলত কোন কোন বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করছি, কোন স্বর-মাধুর্য পছন্দ করছি, এই বিষয়গুলোতে বেশি সংবেদনশীল হতে চেষ্টা করেছি। বিশেষ করে যখন বাংলায় গান গাওয়া হচ্ছে তখন আগে ও পেছনে উচ্চারণের অনেক পুনরাবৃত্তি থাকে। তাই চেয়েছি সেগুলো যেন সঠিক হয়।
গীতিকার জুলফিকার রাসেলের সঙ্গে আপনি কীভাবে সমন্বয় করেছেন?
জুলফিকার চেন্নাই এসেছিলেন। তিনি এখানে এক সপ্তাহ ছিলেন। আমরা সাক্ষাত্ করেছি। রেকর্ডিংয়ের জন্য তার চেন্নাই আসায় ভালো হয়েছে। এতে আমরা বিভিন্ন বিষয় বিনিময় ও তাতে সাড়া দিতে পেরেছি।

গীতিকার জুলফিকার রাসেল। ছবি: সংগৃহীত
আপনি বাংলা ভাষাতেও একটি থিম সং গেয়েছেন। এটি গাওয়ার সময় ভাষাগত দিকটি কীভাবে সামলিয়েছেন?
ইতিহাস থেকে আমরা জানি যে, অনেক চিন্তাবিদ ও বুদ্ধিজীবী বাংলা অঞ্চল থেকে এসেছেন। ইসলামে তাদের কয়েকজন সম্পর্কে আমি জেনেছি এবং আমাদের সবার একটি সাধারণ বন্ধন ও সংস্কৃতি রয়েছে। বাংলায় গান গাওয়ার ক্ষেত্রে আমার অনুভূতি এই যে, ভাষাটি খুবই মিষ্টি। মানুষ যেমন এটিকে ভারতের ফরাসি ভাষা বলে অভিহিত করে। বাংলা ভাষার খুব সুন্দর মাধুর্য রয়েছে এবং যেকোনো গান আরো মিষ্টি শোনায়। বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে আমি সবসময় ভালোবাসা পেয়েছি, এজন্য আমি কৃতজ্ঞ। তাই তারা সবাই যেন লালন করতে পারেন এমন একটি গান তৈরির চেষ্টা করেছি। আমার বিশ্বাস তারা এটি পছন্দ করেছেন।
ইত্তেফাক/বিএএফ
