শীর্ষ ক্রিকেটাররা শুধু নন, বাংলাদেশ সফরে আসেনি নিউজিল্যান্ডের কোচিং স্টাফের সিংহভাগও। দলটাকে উজ্জীবিত করতে দেশ থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন নিয়মিত হেড কোচ গ্যারি স্টিড, ভিডিও কলে পুরো দলের সঙ্গে লম্বা সেশন কাটিয়েছেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনও।
এসবের পরও বাংলাদেশ সফরে আসা ব্ল্যাক ক্যাপসদের হেড কোচ গ্লেন পকন্যাল খুব স্বস্তিতে নেই। চলতি মাসের শুরুতেই মিরপুর স্টেডিয়ামে প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়াকে বিধ্বস্ত হতে দেখেছেন। পুরো সিরিজে সতর্ক চোখ ছিল পকন্যালদের। সেই অভিজ্ঞতা এখন তাদের কপালেও চিন্তার ভাঁজ বাড়াচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ক্ষুরধার বোলিংয়ের কারণেই এখন নিউজিল্যান্ড শিবিরে ভয়, আতঙ্ক হয়ে ধরা দিচ্ছেন মুস্তাফিজুর রহমান। মিরপুরের স্লো, লো বাউন্সের উইকেটে এ বাঁহাতি পেসার কতটা ভয়ঙ্কর, তা সর্বশেষ সিরিজে আরো একবার মঞ্চস্থ হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ানদের নাকের জল-চোখের জল এক করে দিয়ে ৫ ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন কাটার মাস্টার। তার কাটার, স্লোয়ার পড়তেই পারেনি অজিরা। টানা দুই ম্যাচে ৪ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়েছিলেন তিনি।
মোসেস হেনরিকস, ড্যানিয়েল ক্রিস্টিয়ানের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা অকপটে বলে গেছেন, এমন কন্ডিশনে মুস্তাফিজের বল খেলা প্রায় ‘অসম্ভব’। সাকিব-মুশফিকরা দলে থাকলেও আসন্ন পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজে বাংলাদেশি এ পেসারকে তাই হুমকি মানছে নিউজিল্যান্ড দল।
মুস্তাফিজকে সামলানোর ছক কষতে কষতেই সময় কাটছে ব্ল্যাক ক্যাপসদের। সম্প্রতি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে পকন্যাল সেই আভাসই দিয়েছিলেন। কিউইদের কোচ বলেছিলেন, ‘সে অসাধারণ ভালো বোলিং করেছে (অস্ট্রেলিয়া সিরিজে)। সে যে ভাবে ডেলিভারিগুলো করেছে, তা দেখাটা ছিল বিশেষ কিছু। আমার মতে, সে অবশ্যই হুমকি, পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্যরাও।’
মুস্তাফিজের বোলিংয়ের রহস্যভেদ করতে রীতিমতো উঠেপড়ে লেগেছে ব্ল্যাক ক্যাপসরা। কোচের কথায় যেটি স্পষ্ট। তবে ২২ গজে কাটার মাস্টারকে চাপে রাখার কৌশল খুঁজছে সফরকারীরা। পকন্যাল বলেছেন, ‘আমরা তার বোলিং খুব ভালোভাবে দেখেছি এবং আলোচনা করেছি, কোথায় তাকে টার্গেট করা যায়। তবে, দিনশেষে ব্যাপারটি হলো, মাঠে তা করে দেখাতে হবে। তাকে চাপে ফেলার চেষ্টা করা এবং তার বিরুদ্ধে ভিন্ন কিছু করাই থাকবে লক্ষ্য।’
বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ শুরু হবে ১ সেপ্টেম্বর। প্রযুক্তির সহযোগিতা, নিজেদের অভিজ্ঞতা, স্কিলের পুরোটা নিংড়ে দিয়ে মুস্তাফিজকে আটকানোর চেষ্টা করবে কিউইরা। কিন্তু এমন মিশনে তারা কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলে দিবে।
