স্মরণে মুক্তিযুদ্ধে ঢাকার গেরিলা ও আলতাফ মাহমুদ

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২১, ০০:৪১

১৯৭১ সালের ২৯ ও ৩০ তারিখে পাকিস্তানি বাহিনী অভিযান চালায় ঢাকা শহর জুড়ে। আটক হন ঢাকার তরুণ গেরিলাদের একটি দল। তাদের মধ্যে ছিলেন শহিদ রুমি, আজাদ, বদি, জুয়েলসহ অনেকে। পরদিন ৩০ তারিখ ভোরে আটক হন ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের সুরকার শহিদ আলতাফ মাহমুদ। পরবর্তী সময়ে তাদের অনেকেরই কোনো খোঁজ মেলেনি। তারা হারিয়ে যান চিরতরে। সেসব শহিদদের স্মরণ করা হলো গতকাল রবিবার সন্ধ্যায়। বক্তাদের আলোচনায় উচ্চারিত হলো সেসব শহিদদের বিসর্জনের কথা। স্মৃতিতে উঠে এলো তাদের পরিচালিত বিভিন্ন দুঃসাহসী অভিযানের কথা। আলোচনার সঙ্গে গানের সুরে নিবেদিত হলো তাদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। ‘২৯ আগস্ট ঢাকার শহিদ গেরিলা ও সুরস্রষ্টা আলতাফ মাহমুদ স্মরণ’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। জাদুঘরের ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচারিত হয় এই স্মরণানুষ্ঠান। 

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি ও সদস্য-সচিব সারা যাকের। আলোচনায় আংশ নেন পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের শিকার চিত্রশিল্পী আবুল বার্ক আলভী, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ, আলতাফ মাহমুদের স্বজন নৃত্যশিল্পী মিনু হক, কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক। স্মৃতিচারণের পাশাপাশি সংগীত পরিবেশন করেন আলতাফ মাহমুদের স্নেহধন্য অভিনয়শিল্পী মঞ্চকুসুম শিমুল ইউসুফ। শহিদদের সাহসিকতার স্মরণে এই শিল্পী গেয়ে শোনান— আমি মানুষের ভাই স্পার্টাকাস/আমরা পূবে পশ্চিমে/আকাশে বিদ্যুতে/উত্তর দক্ষিণ হাসিতে সংগীতে/নদীর কলতানে আমরা সাগরের গর্জনে চলি অবিরাম ...। ১৯৬৭ সালে শহীদুল্লা কায়সার রচিত গানটির সুর করেছিলেন আলতাফ মাহমুদ।

অনুষ্ঠানের ঢাকায় পরিচালিত বিভিন্ন দুঃসাহসী গেরিলা অভিযানের কথা তুলে ধরেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ। ‘মা’ নামের উপন্যাসের মাধ্যমে শহিদ আজাদ ও তার মায়ের কথা লিখেছেন আনিসুল হক। সেই উপন্যাসের নেপথ্যের নানা ঘটনাসহ মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা তুলে ধরেন তিনি। আলতাফ মাহমুদ, রুমিদের সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনীর কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে নির্যাতিত হয়েছিলেন আবুল বার্ক আলভী। সেই বিভীষিকাময় নির্যাতনের তথ্য তুলে ধরেন তিনি। আলতাফ মাহমুদের প্রেরণায় নৃত্যশিল্পীতে পরিণত হওয়াসহ তার সান্নিধ্যপ্রাপ্ত নানা সুখস্মৃতি মেলে ধরেন মিনু হক।