‘আয় আয় চাঁদমামা টিপ দিয়ে যা, চাঁদের কপালে চাঁদ টিপ দিয়ে যা’। গানের তালে ছোট্ট দুটি হাত বাড়িয়ে প্রাণপণ চেষ্টা। চাঁদটাকে কোনোভাবে যদি টিপ হিসেবে কপালে লাগানো যেত! ছোটবেলা থেকেই ছেলে হোক মেয়ে হোক প্রায় সবাই বোধহয় মায়ের কণ্ঠে এ গান শুনেছি। সেখান থেকেই হয়তো টিপের প্রতি এত ভালোবাসা বাঙালি নারীর। লিখেছেন সৈয়দা রাকীবা ঐশী
একটুখানি রঙিন আভা সাজে নিয়ে আসে পরিপূর্ণতা। টিপের জনপ্রিয়তাই তৈরি করেছে এর রকমারি। যুগ যুগ ধরে চলে আসা টিপের রূপ বদলেছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। সাধারণ গোল টিপ তো আছেই। এর ওপরে লাগানো হচ্ছে পাথর বা ছোট্ট ঝুমকা। কপালে একটু ঝিলিকের জন্য লাগিয়ে ফেলুন পাথরের টিপ। হতে পারে এটি একরঙা অথবা কয়েকটি রঙের মিশ্রণে।
এশিয়ার দু-তিনটি দেশে টিপের ব্যবহার বেশি হয়। এর একটি কারণ বোধহয় আমাদের চেহারা এবং পোশাকের সঙ্গে এর সামঞ্জস্যতা বেশি। টিপের গুরুত্ব অনেক। টিপ একটি মেয়ের সাজে পরিপূর্ণতা আনে। দুই ভুরুর মধ্যে যখন টিপ পরা হয়, মনে হয় সব সাজই হয়ে গেল। টিপের জয়গান এখন বাঙালিদের সীমানা ছাড়িয়ে অবাঙালিদের হূদয়ে। বৈশাখ, বসন্ত, নবান্ন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমাদের সঙ্গে তারাও শরিক হয় রঙিন টিপের সাজে। আর কিছুতে হোক না হোক কপালে ছোট একটু রঙের ছোঁয়া এ দেশের সাজটাই তুলে ধরে অন্যদের কাছে পুরোপুরি বাঙালিয়ানায়। মাধুর্যতা প্রকাশ করার সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহ্যগতভাবে আমাদের সংস্কৃতিও ফুটে ওঠে কপালের এ নকশার মাধ্যমে।
খুব সুন্দর করে আঁকার এ দক্ষতাই আলপনা টিপকে দিয়েছে ভিন্নধর্মী প্রাধান্য। কুমকুমের টিপের ইতিহাস অনেক অনেক আগের। রাজা-রানিদের কপালে শোভাবর্ধন করে এখন রয়েছে আমাদের সাজের তালিকায়। ফ্যাশনসচেতন মানুষ অবশ্য দু-তিন ধরনের মিশ্রণে টিপ পরেন। আলপনা টিপের সঙ্গে পাথর মিলিয়ে অথবা সাধারণ টিপের আশপাশ দিয়েও এঁকে নিচ্ছেন প্রয়োজনমতো। এ ছাড়াও সাধারণ বড় টিপের নিচে ছোট একটি, পরপর নিচে বসানো ছোট পাথরের অথবা সাধারণ গোল টিপ পরে চারপাশ দিয়ে লাইন টেনে নিচ্ছেন। মোটকথা, পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে, রুচির সাথে তাল মিলিয়ে একটু ভিন্নভাবে লাগিয়েই ফেলুন না টিপটি। খারাপ বৈ ভালোই লাগবে।
চেহারার কাটে টিপের ছাঁট
গোল চেহারার অধিকারীরা লম্বা টিপ পরলে ভালো দেখাবে। যাদের চেহারার ধাঁচ লম্বাটে, গোল টিপই হওয়া উচিত তাদের প্রথম পছন্দ। পানপাতা ও চারকোনা কাঠের চেহারার সঙ্গে লম্বা টিপ মানানসই হবে। তবে মাঝেমধ্যে ছাঁটের কিছুটা অদলবদল একটু ভিন্নধর্মী চাহনি পরিবর্তনে মন্দ লাগবে না। টিপ সবচেয়ে বেশি মানানসই দেশীয় পোশাকের সঙ্গে। তবে পশ্চিমা পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে পরতে পারলে খারাপও লাগবে না। টিপ ছাড়া শাড়ির সাজ পরিপূর্ণতা পায় না। আমরা জর্জেট কিংবা শিফন পরলে টিপ পরি না। কিন্তু সুতি ও সিল্ক শাড়ির সঙ্গে বেশির ভাগ সময় আমি টিপ পরি। রং মিলিয়ে অথবা একটু গাঢ় লাল রঙের। দাওয়াতের পোশাকের সঙ্গেই অরনামেন্টাল টিপ বেশি মানানসই। অন্যদিকে সারা দিনের ব্যস্ততায় সাধারণ টিপ ব্যবহার করা উচিত।
যাদের কপাল আকারে ছোট, তাদের জন্য ছোট টিপ মানানসই। যাদের কপাল বড়, তারা বড় টিপ পরলেও সমস্যা নেই। টিপ খোলার পর বেবি অয়েল দিয়ে আঠা মুছে ফেললেই হলো।
