২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা শুনানির বেঞ্চ নির্ধারণের জন্য প্রধান বিচারপতি বরাবর আবেদন দেবে রাষ্ট্রপক্ষ। চলতি সপ্তাহে আবেদন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি শুনানির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। কিন্তু করোনার কারণে সুপ্রিম কোর্টে সীমিত পরিসরে বিচারকাজ চলায় এই মামলার শুনানির উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি। এখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিকের দিকে। সেজন্যই মামলাটি শুনানির লক্ষ্যে ডেথ রেফারেন্স বেঞ্চ নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বরাবর আবেদন দেওয়া হবে।
‘তত্কালীন রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতেই ১৭ বছর আগে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে প্রকাশ্য দিবালোকে চালানো হয়েছিল ভয়াবহ আর্জেস গ্রেনেড হামলা। নৃশংস ঐ হামলার মূল লক্ষ্য ছিল তত্কালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘শেখ হাসিনাকে হালকা নাশতা করানো হবে’-এই উদ্বৃতি দিয়েই দেশীয় জঙ্গি সংগঠন হুজির কতিপয় সদস্য আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সহায়তায় আওয়ামী লীগের ডাকা ঐ সমাবেশে হামলা চালায়। ঐ গ্রেনেড ছিল স্পেশালাইজড মরণাস্ত্র, যা সাধারণত সম্মুখ সমরে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।’—বিচারিক আদালতের দেওয়া রায়ের পর্যবেক্ষণে এভাবেই উঠে এসেছে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার উদ্দেশ্য।
ঐ হামলার ঘটনায় করা হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের দুটি মামলায় ২০১৮ সালে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ আসামিকে ‘ডাবল মৃত্যুদণ্ড’ দেয় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১। দণ্ডিতদের মধ্যে অধিকাংশই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতা। অভিন্ন অভিপ্রায়ে পরিকল্পনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ২৪ জনকে হত্যা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুরুতর জখম করার দায়ে আসামিদের সর্বোচ্চ এই শাস্তি দেওয়া হয়। একই অপরাধে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে ‘ডাবল’ যাবজ্জীবন সাজা দেয় ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া পুলিশের সাবেক তিন আইজিসহ আট কর্মকর্তা ও তিন সেনা কর্মকর্তা পায় লুঘু দণ্ড।
ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ের প্রায় দুই বছরের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রস্তুত করেছে এই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ১ হাজার ৮০ পৃষ্ঠার ভলিউমের ৯০টি পেপারবুক। পেপারবুক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ডিসেম্বর মাসে মামলাটি শুনানির জন্য প্রস্তুত হলে বিষয়টি প্রধান বিচারপতির নজরে আনেন হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে উচ্চ আদালতের বিচারকাজ সীমিত পরিসরে চলায় মামলাটি শুনানির জন্য কোনো ডেথ রেফারেন্স বেঞ্চে পাঠানো সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে হাইকোর্টের তিনটি দ্বৈত বেঞ্চে বিভিন্ন ডেথ রেফারেন্স মামলার শুনানি চলছে ভাচুয়ালি। আইনজ্ঞরা জানিয়েছেন, গ্রেনেড হামলা মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের চলমান যে কোনো একটি ডেথ রেফারেন্স বেঞ্চে অথবা নতুন কোনো বেঞ্চ গঠন করে দিয়ে মামলার শুনানির পদক্ষেপ নিতে পারেন প্রধান বিচারপতি।
প্রসঙ্গত শনিবার ‘ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের কর্মশালায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলাটি শুনানির উদ্যোগ নিতে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে সেপ্টেম্বর মাসে অবকাশের আগেই মামলাটির শুনানির জন্য যাতে বেঞ্চ নির্ধারণ হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বরাবর আবেদন দিচ্ছেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।
