চট্টগ্রাম বন্দর

আমদানি পণ্য আইসিডিতে নেওয়ার আদেশ বাতিল হচ্ছে কাল

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২১, ২২:৫৩

চট্টগ্রাম বন্দরের সব ধরনের আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার চট্টগ্রামের ১৯টি বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোতে (আইসিডি) স্থানান্তর, আনস্টাফিং ও ডেলিভারির জন্য বাংলাদেশ রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যে নির্দেশ জারি করেছিল আগামীকাল বুধবার থেকে সে আদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে বিজিএমইএসহ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় দেশব্যাপী লকডাউন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি কমে গিয়েছিল। চট্টগ্রাম বন্দরের ধারণ ক্ষমতা ছাড়িয়ে গিয়েছিল কনটেইনার। এ অবস্থায় চট্টগ্রামের ১৯টি প্রাইভেট আইসিডি-তে সব ধরনের আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার সাময়িকভাবে স্থানান্তর, সেগুলো থেকে পণ্য আনস্টাফিং করে ডেলিভারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এই লক্ষ্যে সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশক্রমে এনবিআরের কাস্টম নীতি শাখা থেকে গত ২৫ জুলাই এক চিঠিতে সাময়িকভাবে প্রাইভেট আইসিডিগুলোতে অফডকিংয়ের জন্য অনুমোদিত ৩৮টি আমদানি পণ্যের বাইরেও সব আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার প্রাইভেট আইসিডিতে নিয়ে গিয়ে ডেলিভারি প্রক্রিয়া চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। চিঠিতে বলা হয়েছিল, এই আদেশ ৩১ আগস্টের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। এদিকে, প্রাইভেট আইসিডি থেকে পণ্য ডেলিভারিতে ধীরগতি, সেখানে ফর্ক লিফট ছাড়া আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব, প্রাইভেট আইসিডির নানা ঘাটে তিন গুণ টাকা ও মাশুল প্রদান করতে হয়—এসব অভিযোগ তুলে বিজিএমইএ-এর পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। ফলে প্রাইভেট আইসিডির মালিক সংগঠন এবং বিজিএমইএ-এর মালিক সংগঠনের মধ্যে বাদানুবাদের সৃষ্টি হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক ইত্তেফাককে বলেন, ব্যবস্থাপনাগত কারণে চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ডে জাহাজ থেকে নামা অফডকের জন্য নির্ধারিত ৩৮টি পণ্য ছাড়াও সব ধরনের পণ্যভর্তি কন্টেইনার প্রাইভেট আইসিডি-তে পাঠাতে হয়েছে। তবে ৩১ আগস্টের পর সব ধরনের পণ্য প্রাইভেট আইসিডি-তে পাঠানোর প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ৪৯ হাজার টিইইউস ধারণ ক্ষমতার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সংরক্ষিত ইয়ার্ডে এ মুহূর্তে মোট আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার রয়েছে ৩৬ হাজার টিইইউস। যাকে বলা যায় স্থিতিশীল বা সন্তোষজনক পরিমাণ। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ও কন্টেইনারবাহী জাহাজের আগমনও সন্তোষজনক। কোনো কোনো জাহাজ বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছার একদিনের মধ্যেই জেটিতে বার্থিং পেয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো জাহাজের বেলায় লাগছে দুই-তিন দিন সময়। তিনি জানান, জাহাজের টার্ন-এরাউন্ড টাইমও ঠিক আছে।

বাংলাদেশ প্রাইভেট ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) প্রেসিডেন্ট নুরউল কাইউম খান ইত্তেফাককে বলেন, গত ২৬ জুলাই আমরা এনবিআরের নির্দেশ সম্বলিত চিঠি পাই। সে সময় থেকে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারী সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা বন্দরের অতিরিক্ত পণ্যভর্তি সব কন্টেইনার ১৯টি প্রাইভেট আইসিডিতে এনে ডেলিভারির ব্যবস্থা করেছি। এতে ১০-১২ দিনের মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরের সংরক্ষিত ইয়ার্ড কন্টেইনার জটমুক্ত হয়ে যায়। আমরা অনেক কষ্ট স্বীকার করে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার মধ্য দিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সহযোগিতা করে গেছি। এজন্য আমাদেরকে বাড়তি ট্যাক্সও কেউ দেয়নি কিংবা আমাদেরকে প্রণোদনাও দেওয়া হয়নি। ২০২০ সালে কর্তৃপক্ষের অনুরোধে একবার এবং ২০২১ সালে এসে দ্বিতীয়বার কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও সফলতার সঙ্গে আমরা বন্দরের ভয়াবহ কন্টেইনার জট মোকাবিলায় সরাসরি সহযোগিতা করেছি। তা সত্ত্বেও বিজেএমইএ-এর নানা কথাবার্তা প্রাইভেট আইসিডি মালিকদের কাছে প্রীতিকর মনে হয়নি।