পাখি : দর্জি পাখি টুনটুনি

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:২০

 

বাংলাদেশের অতি পরিচিত পাখি। শৈল্পিক বুননে বাসা নির্মাণের জন্য পাখিটির বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। সুক্ষ্ম ঠোঁটে গাছের পাতা সেলাই করে এরা বাসা বানায়। এজন্য এদের ‘দর্জি পাখি’ বলা হয়।  পৃথিবীতে পনেরো প্রজাতির টুনটুনি রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতে কালা টুনটুনি, পাহাড়ি টুনটুনি ও পাতি টুনটুনি—এই তিন প্রজাতির টুনটুনি দেখা যায়।

টুনটুনি অন্যান্য পাখির তুলনায় বেশ ছোট আকারের। লম্বায় ১২-১৩ সেন্টিমিটার। বুক ও পেট সাদা রঙের। ডানার উপরিভাগ ও মাথা জলপাই-লালচে। লেজ খাড়া। কাঁঠাল, ডুমুর, শিম, লাউ, সূর্যমুখী, লেবু গাছে মাটি থেকে কম উচ্চতাতেই এদের বাসা তৈরি করতে দেখা যায়। সুনিপুণ নির্মাণকৌশলে এরা শিমুল তুলা, কাশফুল, পাটের আঁশ ও নরম তন্তু ব্যবহার করে। স্ত্রী-পুরুষ দুজনেই বাসা নির্মাণের এই মহাযজ্ঞে অংশগ্রহণ করে। বাসা নির্মাণে সময় লাগে ৬-৭ দিন। ফাল্গুন মাসের শেষ পর্যায়ে এদের প্রজনন মৌসুম। স্ত্রী পাখি ৪-৫টি ডিম পাড়ে। স্ত্রী পুরুষ পালাক্রমে দুজনেই ডিমে তা দেয়। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে সময় লাগে ১০-১২ দিন। বাচ্চা বড় হলে বাসা ছেড়ে মা ও বাবা পাখি বাচ্চাসহ অন্য কোথাও চলে যায়।

টুনটুনি বেশ চঞ্চল ও অস্থির প্রকৃতির পাখি। এরা এক জায়গায় স্থির থাকে না। এক ঢাল থেকে আরেক ঢালে সারাক্ষণ ঘুরে বেড়ায়। শৈশবে আমরা একটি খেলায় বলতাম, ‘টুনটুনি ভাই পাখি নাচো তো দেখি,/না বাবা নাচব না/পড়ে গেলে বাঁচব না।’

পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ এদের প্রধান খাবার। ফসলের অপকার সাধনকারী পোকা ও কীট সাবাড় করে টুনটুনি আমাদের অনেক উপকার করে যাচ্ছে। কেঁচো, মৌমাছি, মধু, ধান-গমের পোকাও খাবার হিসেবে এদের প্রিয়।

নূরে আলম সিদ্দিকী শান্ত