তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বহুমুখী ব্যবহার একদিকে যেমন জীবনকে করেছে সহজ অন্যদিকে তৈরি করেছে আয়ের উত্স। মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী সকলের কাছেই এখন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক একটি পরিচিত নাম। বর্তমানে দেশে ৪ কোটি ৮২ লাখ ৩০ হাজার মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে ১৮ থেকে ২৪ বছরের তরুণ-তরুণী জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি। গত বছরের তুলনায় নারীদের ফেসবুক ব্যবহার বেড়েছে দেড় শতাংশের বেশি। নারীদের ফেসবুক ব্যবহারের কারণ হিসেবে দেখা যায় ই-কমার্সের প্রসার। অনলাইনে কেনাবেচার কারণে বেড়েছে নারী উদ্যোক্তা সংখ্যা। বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার ফেসবুক পেজ রয়েছে অনলাইন কেনাকাটা করার জন্য। এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার পেজ চালাচ্ছেন নারীরা। অল্প পুঁজিতে নারীরা অনলাইন ব্যবসার মাধ্যমে নিজেদের প্রকাশ করেছে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে। অনলাইন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রায় সব নারী শিক্ষিত। সংসারের চাপসহ নানা সমস্যার কারণে হয়তো তাদের পক্ষে চাকরি করা সম্ভব হয়নি। অনেক নারী রয়েছে যারা কিছু করবে বলে বদ্ধপরিকর তাদের জন্য অনলাইন কেনাকাটায় এনে দিয়েছে দারুণ সুযোগ। করোনাকালীন অনলাইনে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা যেমন বেড়েছে তেমনি বেড়েছে ভোক্তার সংখ্যা। ঘরে বসে অনলাইন ব্যবসার মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে পছন্দনীয় পণ্য ভোক্তা পেয়ে যাচ্ছে বিশ্বস্ততার মাধ্যমে। যারা কেনাবেচা করে তাদের কাছে ভোক্তা সব সময় আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়। ফেসবুকে ঢুকলেই চোখে পড়ে নারী উদ্যোক্তাদের সরব উপস্থিতি নানা রকম পণ্য নিয়ে। হাতে তৈরি পণ্য, বিভিন্ন রকমের পোশাক, প্রসাধনী, খাবারসহ নানান পণ্য। এসব কিছু পরিচালিত হচ্ছে নারী উদ্যোক্তাদের দ্বারা। অনলাইন-কেনাবেচায় নারী উদ্যোক্তার পাশাপাশি তুলনামূলকভাবে নারী ভোক্তার সংখ্যাও বেড়েছে। নারী উদ্যোক্তারা ঘরে বসে পণ্যের ছবি ফেসবুক পেজে দিচ্ছে, যেখান থেকে ভোক্তারা পছন্দের পণ্য বাছাই করে কল করে কিংবা খুদে বার্তা পাঠিয়ে পণ্যটি নিশ্চিত করছে। নারী উদ্যোক্তারা পণ্যটি ভোক্তার কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছে কুরিয়ার সার্ভিস কিংবা ডেলিভারি বয়ের মাধ্যমে। অনলাইনে কেনাবেচা ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়ের জন্য সহজ হয়ে গেছে। তবে এক্ষেত্রে কিছু অসত্ ব্যবসায়ীর থেকে সাবধান হতে হবে। পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় অনলাইন ব্যবসায় ১১ দশমিক ৪৯ শতাংশ মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছে। এতে করে যারা সত্ ব্যবসায়ী তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ক্রেতা পণ্য হাতে পাওয়ার পর যখন দেখছে যে পণ্য অর্ডার করেছে তার চেয়ে নিম্নমানের পণ্য দিয়েছে, তখন অনলাইন ব্যবসায়ীদের ওপর থেকে আস্থা উঠে যাচ্ছে। অনেক অসত্ ব্যবসায়ী পণ্য বিক্রির পর তার পেজ মুছে ফেলছে, যার কারণে তাকে ধরাও যাচ্ছে না। এসব ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কে সতর্ক থাকতে হবে। যাদের ওপর আস্থা আছে, তাদের থেকে পণ্য নিতে হব। অনলাইন ব্যবসা যাতে চালু থাকে সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কেননা অনলাইন ব্যবসা কেবল নারীদের উদ্যোক্তা বানিয়েছে এমন নয়, অনলাইন ব্যবসা নারীদের মুক্তি দিয়েছে পারিবারিক কলহের হাত থেকে। অনলাইন ব্যবসায় নারীরা পেয়েছে মুক্তির স্বাদ। সে জন্য যারা অনলাইনে ব্যবসা করবে তাদের নিবন্ধন সিস্টেম চালু করতে হবে। এতে করে প্রতারককে সহজে শনাক্ত করা যাবে। ই-কমার্স ব্যবহার করে ইতিবাচকভাবে নারী উদ্যোক্তা বেড়ে চলা যাতে বন্ধ না হয় তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
n লেখক :শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
