জামিনে মুক্ত পরীমনি

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০৪

মাদক মামলায় প্রায় এক মাস কারাগারে থেকে জামিনে মুক্তি পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কারাগার থেকে বেরিয়ে সাদা রঙের একটি গাড়িতে ওঠে ঢাকার পথে রওনা দেন তিনি। এসময় কারা ফটকের বাইরে অপেক্ষায় থাকা ভক্তদের দেখা দিতে তিনি গাড়ির সানরুফ খুলে উঠে দাঁড়ান। সেখান থেকেই হাস্যোজ্জ্বল পরীমনিকে হাত নাড়তে দেখা যায় ভক্তদের উদ্দেশে। অনেকের সঙ্গে হাতও মেলান তিনি। তবে সেখানে কোনো কথা বলেননি। হাসিমুখে হাত নেড়ে আর সেলফি তুলে ছড়িয়েছেন উচ্ছ্বাস। তার হাতের তালুতে লেখা একটি বার্তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিনভর চলে আলোচনা।

কারা ফটকে কথা না বললেও পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন পরীমনি। তিনি বলেন, বুঝতে পারছি না কেমন লাগছে। মনে হচ্ছে, ‘হারায়’ গেছি। রেগুলার লাইফে তো ছিলাম না। এটা বর্ণনা করা কঠিন। একটা দুঃস্বপ্নের মতো লাগছে, যেন আমি ঘুমিয়েই ছিলাম। তিনি বলেন, আমি কি মোটা হয়ে গেছি, বুঝতে পারছি না। তবে জেলের ভেতরের অভিজ্ঞতার কথা বলতে রাজি হননি ঢাকাই ছবির এ নায়িকা। জানিয়েছেন, পরে এ নিয়ে কথা বলবেন। পরীমনি আরো জানান, তাকে বাসা ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এতগুলো ক্যামেরা বাসার দিকে তাক করা। অন্য ফ্যামিলির মানুষ বিরক্তবোধ করছেন।

কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় তার হাতে মেহেদি দিয়ে ‘ডোন্ট লাভ মি বিচ’ লেখা দেখা গেছে। এটা কাদের উদ্দেশে—এমন প্রশ্নের জবাবে পরীমনি বলেন, বিচদের উদ্দেশে। লেখাটা পড়ে যাদের মনে হবে, আল্লাহ, আমাকে নিয়ে এটা লিখল, তাদের উদ্দেশেই এই লেখা। আমাকে আটক, গ্রেফতার এবং কারাগারের নিয়ে যাওয়ার পর তাদের জীবন সার্থক মনে হয়েছে। ওদের তালিকা তো আমি নাম ধরে বলতে পারব না। তিনি আরো বলেন, দুমুখো সাপ যারা আছে, অন্তরের মধ্যে জ্বলুনি, মুখে মুখে ‘আই লাভ ইউ’, তাদেরকে উদ্দেশ্যে করে ও কথা বলেছি। তোমাদের ভালোবাসার দরকার নাই। তিনি বলেন, তাদের তিনি চিনে ফেলেছেন। যাদের গলায় গলায় খাতির, এক প্লেটে খাওয়া। আজকে তারা কই?

তিনি আরো বলেন, কেউ কেউ তো খুশিতে নাচাও শুরু করেছে। যেই আমি ফিরে আসছি, অনেকে আবার মিস ইউ, লাভ ইউ বলা শুরু করছে। এই ধরনের ভালোবাসা আমার দরকার নাই। আমি তাদেরকেই বলেছি, তোমরা আমাকে ভালোবাইসো না। আমি যাদের জন্য পরীমনি, যারা সত্যি সত্যি আমাকে অন্তরের মধ্যে বসাইয়ে রাখছে, তাদের আমি সব সময় ভালোবাসি। আজীবন ভালোবাসি।

তবে তার গ্রেফতারের পর সাংবাদিকদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন পরীমনি। বলেন, আমি তো আসলে তাদের জন্য। আমি তো একদিনে হুট করে পরীমনি হইনি। কতগুলো স্টেজ পার হয়ে আজকে এখানে এসেছি, এটা তো আমি জানি। আর যারা আমার সঙ্গে জার্নিটাতে ছিল, তারা দেখেছে আমার পুরোটা। এখন তো হুট করে তাদের মন থেকে পরীমনির নাম মুছে ফেলতে পারবেন না। পরীমনিকে এখন আসামি বানিয়ে সিলগালা লাগিয়ে দিতে পারবেন না। আমার তাদের নিয়েই কাজ, তাদের জন্য আমার সবকিছু।

কবে থেকে কাজ শুরু করছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে পরীমনি জানান, ডিরেক্টরদের সঙ্গে যোগাযোগ করব। যত দ্রুত আমি বাসা থেকে বের হয়ে একটু ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে পারি, তত তাড়াতাড়ি মনে হয় যে আমার আত্মার মধ্যে জান চলে আসবে।

কাশিমপুর মহিলা কারাগারের সুপার হালিমা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, মঙ্গলবার রাত ১০টায় পরীমনির জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছায়। যাচাই-বাছাই শেষে গতকাল সকালে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। জানা গেছে, কারাগারে রজনীগন্ধা ভবনে পরীমনি ছিলেন। এর আগে সকাল সোয়া ৮টার দিকে তার আইনজীবী নীলঞ্জনা রিফাত সুরভী ও খালু মো. জসিমউদ্দিনসহ কয়েকজন স্বজন কারাফটকে আসেন।

প্রসঙ্গত, পরীমনিকে গ্রেফতারের পর তিন বার রিমান্ড নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে শাহবাগে এক সমাবেশ থেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামালসহ বেশ কয়েকজন। অমর একুশের গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী বিদেশে থেকেও দাঁড়িয়েছেন পরীমনির পক্ষে। একাধিক প্রবন্ধও লিখেছেন।