রাশেদুল হায়দার
—তুই আর ভালো হস নাই, এখন আবার কবিতা লিখস।
—যার দ্বারা কিছুই হয় না শুধু তারাই কবিতা লেখে।
—কবিরা ভাত পায় না, বিরানি খায়।
—কবিদের চারিত্রিক ত্রুটি থাকতে পারে জানতাম, তোমার তো বন্ধুর মাথায়ও কিঞ্চিত্ গণ্ডগোল আছে।
—দোস্ত, তোর সৌজন্য কপিগুলো আমারে দিস। আমি বিক্রি করে তোরে ৫% দিবোনে, এতেও যদি তোর কিছু লাভ হয় আর কি!
—তুই যে একটা কবি, এটা তোর বউ কি জানে?
—কবি হইছস ভালো কথা, আমার পাওনা টাকাগুলো দেছ না ক্যা?
—কবিরা ভাতেও মরে, শীতেও মরে।
—খবরদার বিয়ের বায়োডাটাতে কবি কথাটা লিখিস না, তাহলে হইছে! আর মেয়ে পাবি না।
—আচ্ছা তোর ৮নং কবিতা জুঁইকে নিয়ে, ৯নং আঁখিকে নিয়ে তাহলে ১০নং কাকে নিয়ে?
—তুই যদি আজকে আমাকে কাচ্চি বিরানি খাওয়াস তাহলে তোর অটোগ্রাফ আমি নিতে পারি।
—মানুষ বয়স হইলে বিয়ে করে, ছ্যাঁকা খাইলে কবিতা লিখে।
—দোস্ত, তোর শেষের কবিতার আগের কবিতাটা অনেক জোশ হইছে। যদিও সময়ের অভাবে পড়তে পারিনি।
—শুন এই কবিতা-টবিতা ভালো জিনিস না, চল আইএলটিএস করে বিদেশ যাই।
—তুই শুধু আমার বন্ধু বলে, না হলে তোর এই খ্যাত মার্কা কবিতা লেখার জন্য তোকে আমি ফেসবুকে আনফ্রেন্ড করে দিতাম।
—আচ্ছা, কবিতা লেখে কত টাকা পাস রে? আমার আরেক বন্ধুু টিউশনি করে মাসে ১০ হাজার টাকা ইনকাম করে।
—রাস্তা-ঘাটে পুলিশ ধরলে ভুলেও বলিস না তুই একজন কবি, তাহলে মাইর আরও দুই ঘা বেশিই খাবি।
—কবিদের বউরা কবিতাকে হিংসা করে।
—কবিরা সর্বভুক প্রাণী, তাদের গায়ের চামরা সাধারণত মোটা হয়।
—অবলা কবিদের নিয়ে অহেতুক কৌতুক বন্ধ করুন। তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসুন। মনে রাখবেন কবিরাও মানুষ।
ডুয়েট, গাজীপুর
