পরিবেশ সংরক্ষণে ইসলামের শিক্ষা

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১৭

ইসলামকে বলা হয় স্বভাবগত বা প্রকৃতির ধর্ম। সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ মূলত সামাজিক জীব। মানুষকে ঘিরেই পরিবেশ-প্রকৃতি ও সমাজের সৃষ্টি। আর পরিবার, পরিবেশ ও সমাজ নিয়ে ইসলামের পরিবেশগত চিন্তাভাবনা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হচ্ছে, ‘তাদের জন্য নিদর্শন একটি মৃতভূমি। আমি একে সঞ্জীবিত করি এবং তা থেকে উত্পন্ন করি শস্য, তারা তা ভক্ষণ করে। আমি তাতে উত্পন্ন করি খেজুর এবং প্রবাহিত করি ঝরনাধারা, যাতে তারা ফল খায়।’ —সুরা ইয়াসিন :৩৩

পরিবেশ সুস্থ, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখতে রয়েছে ইসলামের তাকিদ। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা নিজেদের ধ্বংস নিজেরা ডেকে এনো না।’ (সুরা বাকারা :১৯৫) অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘মানুষের কৃতকর্মের দরুণ সমুদ্র ও স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে।’ —সুরা আর রুম :৪১

আল্লাহতায়ালা পৃথিবীতে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে জীবজগতের অস্তিত্ব রক্ষায় বৃক্ষ সৃষ্টি করেছেন। ইরশাদ হচ্ছে, ‘আমি বিস্তৃত করেছি ভূমিকে ও তাতে স্থাপন করেছি পর্বতমালা এবং উত্পন্ন করেছি নয়নাভিরাম বিবিধ উদ্ভিদরাজি। এটি আল্লাহর অনুরাগী বান্দাদের জন্য জ্ঞান ও উপদেশস্বরূপ।’ —সুরা কাফ :৭-৮

আমরা জানি, গাছ মানুষ ও পরিবেশের অকৃত্রিম বন্ধু। সবুজ গাছপালার ওপরই নির্ভর করে মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর টিকে থাকা। এই গাছ ইচ্ছে হলেই কাটা যাবে না। কারণ ‘গাছের প্রাণ আছে’—এটা হাদিসের বাণী। হাদিসে রসুল (স) থেকে জানা যায়, এক লোক যখন অকারণে একটি গাছের ডাল ভাঙে তখন নবি করিম (স) সে লোকটির চুল মৃদুভাবে টান দিয়ে বলেন, তুমি যেমন শরীরে আঘাত পেলে ব্যথা পাও, গাছের পাতা বা ডাল ছিঁড়লে গাছও তেমন ব্যথা পায়।

পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য গাছ লাগানোর শিক্ষা আমরা মহানবি (স)-এর হাদিস থেকে পাই। তিনি বলেছেন, যদি তুমি মনে করো, আগামীকাল কিয়ামত হবে, তবু আজ একটি গাছ লাগাও। তিনি আরো বলেছেন, পবিত্রতা ইমানের অর্ধাংশ। হজরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত আছে, রসুল (স) পানিতে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন। হজরত মোয়াজ বিন জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত, রসুল (স) বলেছেন, তোমরা লানত পাওয়ার তিনটি কাজ অর্থাত্ পানির ঘাট, রাস্তার মাঝে এবং বৃক্ষের ছায়াতলে মলত্যাগ থেকে বিরত থাকো। বায়ুদূষিত হয়ে একজনের রোগ অন্যজনের কাছে স্থানান্তরিত হয়। আমরা অনেক সময় হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় মুখ ঢাকি না। এতে করে নির্গত ময়লা ও জীবাণু দ্বারা অন্যের ক্ষতি হতে পারে। হজরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রসুল (স) যখন হাঁচি দিতেন, তখন তিনি মুখ ঢেকে নিতেন।

lলেখক :পরিবেশ স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক, সবুজ আন্দোলন কার্যনির্বাহী পরিষদ