ঢাকার গ্রিনল্যান্ড মডেল স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে আফরিন শিখা। পড়ালেখার পাশাপাশি নাম লিখিয়েছে অভিনয়জগতেও। সব মিলিয়ে ৫০টি বিজ্ঞাপন, ৩০টির বেশি নাটক এবং ৫টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছে সে। ‘যদি একদিন’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য শিশুশিল্পী হিসেবে পেয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৯। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন—
মুনতাসির সিয়াম
রাইসা, তুলি, পরী—তোমার কতগুলো ডাক নাম?
হাঃ হাঃ, আমার ডাকনাম একটাই। রাইসা। কিছুদিন আগে ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’ ধারাবাহিকে অভিনয় করেছিলাম। সেখানে আমার নাম ছিল তুলি। নাটকটি অনেক জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় এখন সবাই আমাকে তুলি নামেই চেনে। আর পরী নামটা আদর করে ডাকতেন শ্রাবন্তী আন্টি (কলকাতার অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি)। ‘যদি একদিন’ সিনেমায় অভিনয়ের সময়ের কথা সেটা, বুঝলে?
হুম, বুঝলাম। এখন বলো, অভিনয়ে কীভাবে আসা?
২০১৪ সালের কথা। সুপারস্টার এলইডি লাইটের একটা বিজ্ঞাপনের জন্য শিশুশিল্পী খুঁজছিলেন পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী আঙ্কেল। তাঁর সঙ্গে পরিচয় ছিল আমার এক চাচ্চুর। চাচ্চু সব জানতে পেরে আমার একটা ছবি দেখান ফারুকী আঙ্কেলকে। ছবি দেখে পরদিনই অফিসে ডাক পড়ল আমার এবং সেই বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের মধ্য দিয়েই অভিনয়ের শুরুটা।
ভয় পেয়েছিলে প্রথমবার অভিনয়ের সময়?
ভয় পাব না! সবে মাত্র পাঁচ বছর বয়স তখন। ফারুকী আঙ্কেল সেই বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন চট্টগ্রামে। সঙ্গে মা যেতে পারেনি। মাকে ছাড়া সেবারই প্রথম দূরে কোথাও গিয়েছি। তার ওপর প্রথমবারের মতো ক্যামেরার মুখোমুখি হয়েছি। সব মিলিয়ে খুব ভয় পেয়েছিলাম। আমাকে শান্ত রাখতেই যেন পুরো টিম ব্যস্ত। জানো, তিশা খালামণি (অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা) পর্যন্ত ফোন দিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলতেন সে সময়, বোঝাতেন লক্ষ্মী হয়ে থাকার জন্য।
অভিনয়ে তুমি চমত্কার। পড়ালেখার গল্পটা শুনতে চাই।
প্রশ্ন শুনে এক গাল হেসে মায়ের দিকে তাকাল রাইসা। এরপর উত্তরটা দিলেন রাইসার মা নিজেই। বললেন, পড়ালেখায় রাইসা ফার্স্ট। কখনোই পড়ার কথা বলতে হয় না। সময় হলে নিজেই গিয়ে পড়তে বসে। তবে শ্যুটিংয়ের দিন তো আর অন্য দিনের মতো ঠিকঠিক সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে টেবিলে পড়তে বসা হয় না, ওই পড়াটুকু অন্য এক সময় পড়তে হয়। এছাড়া সকাল-সন্ধ্যা নিয়ম করেই পড়ে রাইসা।
‘যদি একদিন’ সিনেমায় তুমি শুধু বাবার হাতেই ডিম সেদ্ধ খেতে। দাদি নাকি সুন্দর করে ডিমের খোসাটা ছাড়াতেই পারে না। বাস্তবেও কি এমন করো?
হাঃ হাঃ হাঃ, ঠিকই ধরেছ। ‘যদি একদিন’ সিনেমায় আমাকে সেরকম চরিত্রেই দেখা গিয়েছে। তবে বাস্তবেও ডিম সেদ্ধ খাওয়া নিয়ে আমি ভীষণ যন্ত্রণা দিই মাকে। কারোর ডিমের খোসা ছাড়ানোই পছন্দ হয় না আমার। নিজেই ডিম সেদ্ধ হলে খোসা ছাড়িয়ে খাই।
গত দেড় বছর যাবত্ স্কুল, শ্যুটিং সবকিছুই বন্ধ। কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে বাসায় বসে কী কী কাজ করেছ?
অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে আমার স্কুলে। এছাড়া মন ভালো রাখতে ছবি আঁকছি, মায়ের অনেক কাজেও সাহায্য করছি।
কচি-কাঁচার আসরের মাধ্যমে ভক্তদের উদ্দেশে কিছু বলতে চাও?
সবাইকে ধন্যবাদ। আমার জন্য দোয়া করবেন যেন অভিনয়ের মধ্য দিয়ে একদিন অনেক বড় হতে পারি।
