আমাদের দেশে ৩১টি প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে এবং সর্বশেষ গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয় ২০২১ সালে সিলেটের জকিগঞ্জে। দৈনন্দিন জীবনে রান্নার কাজ এবং শিল্প কলকারখানার ইন্ধনশক্তি হলো গ্যাস। কিন্তু ঢাকাসহ নগরকেন্দ্রিক এলাকায় অধিকাংশ বাড়িতে গ্যাসের অপচয় হয়। গ্যাস বেশি জ্বালালেও বিল নির্দিষ্ট। গ্যাস না জ্বালালে বা কম জ্বালালে কিংবা অতিরিক্ত জ্বালালেও বিলের পরিবর্তন হয় না। তাই সিংহভাগ ব্যবহারকারী গ্যাসের অপচয় রোধে বেখেয়াল। কেউ কেউ একটি ম্যাচের কাঠি ব্যবহার করবেন না বলেও দিন-রাত চুলা জ্বালিয়ে রাখেন। এভাবে অপচয়ের কারণে বর্তমানে ঢাকা শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত গ্যাসের সরবরাহ খুবই কম থাকে। অথচ এর দায়ভার আমাদেরই। গ্যাসের অপচয় না করলে এমন অবস্থায় পড়তে হতো না।
আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হলো শিল্পায়ন। আর শিল্পায়নের জন্য যা সবচেয়ে বেশি দরকার, তা হলো ইন্ধনশক্তি। বাংলাদেশ উন্নয়নের দিকে পা বাড়ালেও পর্যাপ্ত ইন্ধনশক্তির অভাবে শিল্পখাতে আশানুরূপভাবে সফল হতে পারছে না। এদেশে ইন্ধনশক্তি হিসেবে কয়লা ও গ্যাস পাওয়া যায়; অথচ যেভাবে গ্যাস অপচয় বাড়ছে, তাতে গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস ফুরিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের সম্ভাবনা একেবারেই কম, তাই একমাত্র ভরসা সাগরপ্রান্তের গ্যাসক্ষেত্র। তবে এটা নিয়েও শঙ্কিত অনেকে। সুতরাং উত্পাদন বৃদ্ধি ও নতুন গ্যাস মজুদ আবিষ্কার এ মুহূর্তে গ্যাস সেক্টরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। রান্নাবান্নার কাজ ছাড়া বাসাবাড়িতে গ্যাসের চুলা বন্ধ রাখতে হবে। গ্যাসের অপচয় রোধে ব্যবহারকারীদের প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনা যেতে পারে। সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ যেমন জরুরি, পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বাড়াতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া উচিত। গ্যাসের বিল নির্ধারিত বলে আমরা জাতীয় সম্পদ নষ্ট হতে দিতে পারি না। জনসচেতনতাই পারে গ্যাসের অপচয় রোধ করতে।
ঢাকা
