রায়পুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের দুর্ভোগ

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:৫৪

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ১২ বছর ধরে এক্স-রে যন্ত্রের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি বা টেকনিশিয়ান) নেই। এতে সচল এক্স-রে যন্ত্রটি এক যুগ ধরে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এ কারণে স্থানীয়      মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতিদিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা নিতে আসা রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে দিয়ে বাইরের প্রাইভেট ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে              এক্স-রে করাতে হয়।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানান, শূন্য পদ পূরণের জন্য ২০০৭ সাল থেকে অসংখ্য বার প্রতিবেদন দিয়েও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পাওয়া যায়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে­ক্স ও সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দেওয়ার জন্য বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, কিন্তু সংশ্লি­ষ্ট দপ্তর থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

লক্ষ্মীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য মতে, এ উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের চিকিত্সার ভরসা রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লেক্স। মানুষের সেবার জন্য ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। কিন্তু হাসপাতারে এক্স-রে যন্ত্রটির টেকনিশিয়ান না থাকায় তা ব্যবহার হচ্ছে না। এতে গরিব রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগে গড়ে ৮০০ রোগীকে চিকিত্সা সেবা দেওয়া হয়। এর মধ্যে কমপক্ষে শতাধিক রোগীর               এক্স-রের প্রয়োজন হয়।

তিনজন চিকিত্সক জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি এক্স-রে করতে রোগীর খরচ হয় ৪০ থেকে ৫০ টাকা। একই এক্স-রে করতে বাইরের ক্লিনিকে রোগীর কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে টেকনিশিয়ান না থাকায় কমপ্লেক্সের সামনে যত্র-তত্র ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠছে।

রায়পুর উপজেলার বামনী গ্রামের হেদায়েত উল্লা ব্যাপারী জানান, দেড় মাস আগে তিনি                স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পা ভাঙার এক্সে-রে করতে এসেছিলেন। অনেক ঘুরাঘুরির পর জানতে পারেন                      এক্স-রের টেকনিশিয়ান নেই। পরে তিনি বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে গিয়ে এক্স-রে করেন।

লক্ষ্মীপুর সিভিল সার্জন ডা. মোস্তফা খালেদ আহ্মদ বলেন, রায়পুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে টেকনিশিয়ান না থাকায় রোগীদের সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। শূন্যপদটি পূরণের জন্য প্রতি মাসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।