তাড়াশে মাঠে কাজ নেই, বিপাকে নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৪:৪৩

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বন্যার কারণে ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী বিশেষ করে উরাঁও সম্প্রদায়ের মানুষজন চরম বিপাকে পড়েছেন। মাঠে কাজ না থাকায় তারা বিন্নার ফুল, খেজুর পাতা ও তালপাতার ঝাঁটা, সাপটা, পাটি বুনে বিক্রি করে কোনমতে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন।

তাড়াশের নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত মানিকচাপর গ্রামের সুমুতি উরাঁও, সন্ধ্যা উরাঁও, শান্তি উরাঁও, শাপলা উরাঁও ও ববিতা উরাঁও বলেন, আমরা সহায় সম্বলহীন। দিন মজুর খেটে পেট চলে। বাড়িতে কোনো খাবারের মজুদ নেই। ভাদ্র মাসের শুরুর দিকে আমন রোপণের পর থেকে মাঠে কাজও নেই। সেই ধান পাকতে তিন মাসের মতো সময় লাগবে। এরপর আগামী কার্তিক মাস পর্যন্ত তেমন কাজ নেই। বলতে গেলে, ‘আড়াই থেকে তিন মাস আমাদের অর্ধাহারে দিন কেটে যাবে।’

গুল্টা গ্রামের ঈশান কুজুর, অমৃত এক্কা ও রঞ্জনা টপ্য বলেন, ‘পেটের দায়ে তারা কম দামে কৃষকের কাছে আগাম শ্রম বিক্রি করছেন। অনেকে ঋণ ও ধার দেনায় জড়িয়ে পড়ছেন।’

এদিকে উপজেলা উরাঁও ফাউন্ডেশনের দেওয়া তথ্যমতে তাড়াশ উপজেলায় ২২ হাজারের মতো নৃ-তাত্ত্বিক সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করছেন। জাতিগতভাবে তারা কঠোর পরিশ্রমী। তারা অধিকাংশই ভূমিহীন ও কৃষি শ্রমিক।

শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরজমিনে দেখা গেছে, মানিক চাপর গ্রামের ছয়জন ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর নারীরা রানীহাট আঞ্চলিক সড়কের বেরখালি এলাকায় খালের পাড় থেকে ভিন্যার ফুল সংগ্রহ করছেন।

জানা গেছে, ভাদ্র থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর মানুষজন বিন্নার ফুল, খেজুর পাতা, তালপাতা ও বাঁশের ঝাঁটা, সাপটা, পাটি, কুলা, ডালি, টোপা, চালুন, খালই ও মাছের ওড়া তৈরি করে তা হাটে-বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অনেকে মাছ ধরে ও শালুক কুড়িয়ে বিক্রি করেন। এরপরও কাঁকড়া ও শামুক, ঝিনুক ধরে তারা পরিবারের খাবারের চাহিদা মেটান।

উপজেলা উরাঁও ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিরেন্দ্র নাথ বাঁরো বলেন, ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মানুষজন বংশ পরম পরায় কুটির শিল্পের নানা রকম জিনিস তৈরি করতে পারদর্শী। তিনি তাদের জন্য সরকারিভাবে কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও মূলধন হিসেবে সুদমুক্ত ঋণ সহায়তার দাবি জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেজবাউল করিম দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, পর্যায় ক্রমে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের লোকজনকে কুটির শিল্প প্রশিক্ষণের আওতায় এনে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।।

ইত্তেফাক/এমআর