‘শিশুদের মাতৃদুগ্ধদান সহায়তায় বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম’

সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাওয়া

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:০৫

  রাবেয়া বেবী

 

শিশুদের মাতৃদুগ্ধদান সহায়তায় বিশ্বে প্রথম স্থান অধিকার করেছে বাংলাদেশ। ১০০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ এই মাইলফলক অর্জন করেছে। ১০০ নম্বরের মধ্যে মাতৃদুগ্ধদানে মায়েদের সহায়তায় বাংলাদেশের অর্জন স্কোর ৯১ দশমিক ৫। ‘মেকিং আ ডিফারেন্স’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মূলত ১০টি বিষয়কে সূচক হিসেবে ধরে ডব্লিউবিটিআই দেশগুলোকে গ্রিন, ইয়েলো ও রেড হিসেবে চিহ্নিত করে এ তালিকা করেছে। রিপোর্টে বাংলাদেশকে ‘গ্রিন ন্যাশন’ হিসেবে অভিহিত করে। এ বিষয় নিয়ে মহিলা অঙ্গনের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ডা. এস কে রায়।

* কীভাবে অর্জন সম্ভব হয়

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় দেশে মাতৃদুগ্ধদানে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে বলে ডব্লিউবিটিআই-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে শিশুদের মাতৃদুগ্ধদানের বিষয়টিতে জোর দেওয়া শুরু হয়। একটা নির্দিষ্ট মান বজায় রেখে নবজাতক ও শিশুদের মায়ের বুকের দুধ পান করানোর প্রোগ্রামটি বাংলাদেশে শুরু হয় ২০০৪ সাল থেকে। 

* কীভাবে কাজ করছেন

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জাতীয় পুষ্টি সেবা’ কার্যক্রম এবং ‘বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশন’ এক সঙ্গে কাজ করছে। নিয়মিত ব্রেস্ট ফিডিং ট্রেনিং দেওয়া হয়। শিশু ও গাইনি বিভাগে আমরা চিকিত্সক ও নার্সকে ট্রেনিং দেই। ট্রেনার অব দ্য ট্রেনিংয়ের কাজও আমরা করি। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ সহায়তা করে। অর্থনৈতিক সহায়তা করে ডিজি হেলথ এবং ডিজি ফ্যামিলি প্ল্যানিং। পুরো কাজটাই চেইন কর্মকাণ্ডে সম্পন্ন হয়।

* বাজারে কৌটার দুগ্ধও আছে

মাতৃদুগ্ধ পানের ফলে বিশ্বে প্রতিবছর অন্তত ৭ লাখ জীবন রক্ষা পায়। মাতৃদুগ্ধ পানের অন্যতম সুবিধা হচ্ছে, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য রক্ষা করে। সেই সঙ্গে অসংক্রমণ রোগ প্রতিরোধ করে মৃত্যুঝুঁকিও কমিয়ে দেয়। ডব্লিউবিটিআই বলছে, বিশ্বে প্রতিদিন অপর্যাপ্ত মাতৃদুগ্ধের কারণে খরচ করতে হয় প্রায় ১০০ কোটি ডলার। যা টাকার অঙ্কে খুব বড় অংশ। সেই সঙ্গে এটি স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়াচ্ছে।

* এ সম্পর্কিত আইন নীতি

আইন নীতি আছে তবে সবাই তা মানছে না। আবার আমরা অনেক প্রান্তিক স্থানে পৌঁছাতে পারলেও সবার কাছে পৌঁছাতে পারছি না। কোম্পানিগুলো টাকা ব্যয় করে ওষুদের দোকানে দুধের কৌটা রাখে, আইন মানলে এটা হতো না।

* এইগুলোই কি কাজের প্রতিবন্ধকতা

করোনাকালে আমরা মাঠে থাকতে পারিনি। এতে একটা বিরূপ প্রভাব পড়েছে। অনেক কর্মজীবী মা মাতৃত্বকালীন পুরো ছুটি পায় না। কর্মক্ষেত্রও বিষয়টি অতটা আমলে আনে না। আইন প্রয়োগ কম হয়। কোম্পানিগুলো ভুল আর মিথ্যা বলে মায়েদের প্রভাবিত করে। কোম্পানিগুলোর আগ্রাসন আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ।

* তারপরও এই অর্জন

আমরা আশাবাদী জাতীয় পুষ্টি সেবার আওতায় মাদার সাপোর্ট গ্রুপ কাজ করছে। ৮০টি উপজেলায় ৪০-৪৫টি জেলায় তারা কাজ করছে। আমরা আমাদের কাজ করেই যাব, এখানে অনেক স্টেক হোল্ডারের ভূমিকা আছে। যেমন সাংবাদিকদেরও ভূমিকা আছে।

 

ছবি : ইন্টারনেট