ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজ নিয়ে...

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:০৯

করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা চরম দুর্বিষহ অবস্থার

মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে সশরীরে শুরু হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা। অথচ সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয়

পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। উক্ত বিষয়ে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের

ভাবনা জানাচ্ছেন— মাহমুদুল হাসান ইজাজ

বৈষম্য নীতির পরিবর্তন চাই

ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজ অধিভুক্ত হওয়ার থেকেই বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। একদিকে যেমন পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়, অন্যদিকে সঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার অভাব। সম্প্রতি দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষার্থীদের টিকা নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। এমনকি অধিকাংশ শিক্ষার্থী টিকা নিয়েছে। তবুও তারা সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি। বরং অনলাইনের মাধ্যমে পরীক্ষা নিয়েছে এবং নিচ্ছে। আর সেখানে অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা এখন পর্যন্ত টিকা পায়নি। এরমধ্যে ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের কর্তৃপক্ষ সশরীরে পরীক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে যেখানে টিকা পায়নি সেখানে কীভাবে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়া হবে? যার ফলশ্রুতিতে করোনা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে আবাসিক হল বন্ধ রেখে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বলতে গেলে এই সিদ্ধান্ত এক ধরনের বৈষম্য নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং, কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল একপাক্ষিক চিন্তা না করে সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং তা বাস্তবায়ন করা।

—মু. সায়েম আহমাদ, শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা।

আবাসনব্যবস্থা নিয়ে বিড়ম্বনার শিকার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সশরীরে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এখনো অনলাইনে পরীক্ষা হচ্ছে এবং করোনা টিকা নিশ্চিত না করে তারা সশরীরে পরীক্ষার চিন্তাভাবনা করছে না। সাত কলেজের প্রশাসন সশরীরে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তবে এখনো হল খুলে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তাহলে আমরা যারা ঢাকার বাহিরের তাদের ভোগান্তির শেষ হবে না। কেননা আমাদের প্রথমত ঢাকায় থাকার জায়গা নিয়ে ভাবতে হবে, আমাদের থাকার জায়গা নিয়ে সাত কলেজে প্রশাসন কোনো চিন্তাভাবনা না করেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা গিয়ে থাকব হয়তো কোনো আবাসিক মেস বা হোস্টেলে। কিন্তু সেখানে কি আমাদের স্বাস্থ্য বিধি মেনে থাকতে পারব? কেননা সাধারণ শিক্ষার্থীদের থাকার মেস বা হোস্টেলগুলোতে একসঙ্গে একই রুমে কয়েক জন মিলে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। শুধু শুধু আমাদের অর্থনৈতিক বিড়ম্বনা এবং মানসিক ভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পরীক্ষা দিতে যেতে হবে। শুধুমাত্র পরীক্ষার্থীদের জন্য হলেও ক্যাম্পাসের হলগুলো খুলে দেওয়া অতীব জরুরি মনে করছি।

—সাবিহা ইয়াসমিন প্রীতি, শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ।

স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

দেশে করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি ভয়াবহ। দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজের বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষা সশরীরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এদিকে ক্যাম্পাসের হলগুলোও বন্ধ। যার ফলে গুটি কয়েক শিক্ষার্থী পড়াশোনার কিছুটা দিকনির্দেশনা পেলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থী এদিক থেকে বঞ্চিত হয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে সাত কলেজের আবাসিক এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা টিকার জন্য নিবন্ধন করলেও এখনো টিকা পাওয়া নিশ্চিত হয়নি। এমতাবস্থায় সশরীরে পরীক্ষা নেওয়া কতটা যৌক্তিক? প্রশ্ন থেকে যায়। আবার সশরীরে পরীক্ষা নিলেও তাতে স্বাস্থ্যবিধি কতটা মানা হবে সেটা নিয়েও ভাবনার বিষয়। কেননা আমাদের মতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের থাকার মেস বা হোস্টেলগুলোতে একসঙ্গে একই রুমে কয়েক জন মিলে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। শুধু শুধু আমাদের অর্থনৈতিক বিড়ম্বনা এবং মানসিক ভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পরীক্ষা দিতে যেতে হবে। আশাকরি, কর্তৃপক্ষ একটি সুপরিকল্পিত পরিকল্পনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া নিশ্চিত করবে।

—মো. আকিব হোসাইন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা।