স্পোর্টস রিপোর্টার
টানা দু’টি ফাইনালে হার। স্বপ্নের দুয়ার থেকে ফেরার আক্ষেপে পুড়ছে সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস। গেলবার ক্রিস গেইলের সেঞ্চুরি, এবার তামিমের সেঞ্চুরি - দু’টো ইনিংস ছিটকে ফেলল ঢাকাকে।
এই দুই স্পেশাল ইনিংসের আক্ষেপে পুড়ছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ফাইনাল শেষে সেই কথাটাই জানালেন। বললেন, ‘ফাইনালে হেরে গেলে তো তা অবশ্যই কষ্টকর। তিনটা ফাইনালে পরপর খেললাম। প্রথমটায় জিতেছি, তারপরের দুইটায় হেরেছি। দুঃখ আছে একদিক থেকে। আরেক দিক থেকে যদি চিন্তা করি, টি-টোয়েন্টিতে যদি এমন কোনো ইনিংস থাকে তাহলে কাজটা খুব কঠিন হয়ে যায়। গত বছর গেইল ১৪৬ করেছিল, এবার তামিম ১৪১ করল, দুইটা ইনিংসে আমরা দুইটা ম্যাচ হেরে গেছি। এরপর চেষ্টা করতে হবে এমন ইনিংস যেন আর কেউ না খেলতে পারে।’
তবে, তামিম ইকবালের প্রশংসা করতে ভুললেন না জাতীয় দলের সতীর্থ সাকিব, ‘তামিম তো অবশ্যই অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেছে। শেষ দুইটা ফাইনালে দুইটা স্পেশাল ইনিংস আমাদের হারের বড় কারণ। এর সঙ্গে আমাদের দিক থেকেও কিছু ভুল ছিল। এই ম্যাচে শেষ ১০ ওভার ৯ উইকেট হাতে নিয়ে ৯০ রান করা অবশ্যই উচিত ছিল। বিশেষ করে এমন ভালো উইকেটে, ছোট মাঠে। পারিনি বলে এই হার খুব হতাশাজনক।’
সাকিব আর তামিম ক্যারিয়ারের একদম গোড়া থেকে খেলছেন এক সঙ্গে। তামিমকে বরাবরই কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন সাকিব। সেই সাকিব মনে করছেন, তার দেখা এটাই তামিমের সেরা ইনিংস। বিডি নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমার দেখা ওর সেরা ইনিংস এটিই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বলুন বা ঘরোয়া, সব মিলিয়েই সেরা। যে রকম স্টেজে, যেভাবে ব্যাট করেছে, যে ইনিংসটি খেলেছে, ইনিংস যতটা বড় করেছে... এক কথায় অবিশ্বাস্য। ইনিংসটি যেভাবে শুরু করেছে, তার পর যেভাবে গড়েছে, এগিয়ে নিয়েছে এবং যেভাবে শেষ করেছে, সবকিছুই অসাধারণ ছিল। আমাদের ব্যাটসম্যানদের তো নরম্যালি এতটা দেখা যায় না।’
তামিমকে কৃতিত্ব দেওয়ার পাশাপাশি দলের ব্যাটিংকেও দুষলেন সাকিব। বললেন, ‘বেশ কয়েকটা টার্নিং পয়েন্ট ছিল। ২০০ রানের টার্গেট পেয়েও আমরা জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। ১১ ওভারে ১ উইকেটে ১০২ রানও করে ফেলেছিলাম। ৯ ওভারে বাকি ৮০ রান ৯ উইকেট হাতে করতে হতো। এ অবস্থায় জয় পাওয়া সম্ভব ছিল। থারাঙ্গাকে হারিয়ে আমরা মোমেন্টাম হারিয়ে ফেলি। এরপর আমার ও রনির আউট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এছাড়া আজকের ম্যাচে আমি, পোলার্ড, রাসেল, নারিন মিলে ২০ রানও করতে পারিনি। আমাদের ওপর দলটা অনেক নির্ভর করে। সেদিক থেকে আমরা ব্যর্থ।’ ফাইনাল হারলেও এবারের বিপিএলে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন সাকিব। এবারের বিপিএলে সাকিব একাই নেন ২৩ টি উইকেট। বিপিএলের এক আসরে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার ক্ষেত্রেই এটাই সেরা নজির। সাকিব নিজের বোলিংয়ে সন্তুষ্ট, তবে আক্ষেপ করলেন ব্যাটিং নিয়ে।
বললেন, ‘আবার সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতে খুশি। আরও কিছু বেশি রান করতে পারলে আরও ভালো লাগত। হয়ত আরও বেশি কিছু রান করা উচিতও ছিল। বোলিংয়ে খুবই খুশি যেভাবে টুর্নামেন্টটা গিয়েছে। তারপরও মনে হয়, বোলিংয়ে স্কিলের দিক থেকে উন্নতির এখনও কিছু জায়গা আছে। খেলোয়াড় হিসেবে সব সময়ই চাইব আমি যেন দলের সেরা ব্যাটসম্যান ও বোলার হতে পারি। অনেক সময় মানসিক দিক থেকে কোনো সমস্যা থাকে, অনেক সময় স্কিলের দিক থেকে কোনো সমস্যা থাকে। অবশ্যই চেষ্টা থাকবে সামনে যদি সুযোগ আসে সুযোগ যেন কাজে লাগাতে পারি। ম্যাচ শেষ করে আসতে পারি।’
