ধুলা দূষণ বন্ধে কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:১২

ধুলা দূষণে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত সমস্যা হচ্ছে এবং এ থেকে আর্থিক ও পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে। ফলে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় অবিলম্বে ধুলা দূষণ বন্ধে জরুরি কার্যকর পদক্ষেপ এবং দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো।

গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর শাহবাগে চারুকলা ইনস্টিটিউটের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে তারা এ দাবি জানায়। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম (নাসফ)সহ সমমনা সংগঠনগুলো যৌথভাবে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলছেন, খোঁড়াখুঁড়ির মাটি ও অন্যান্য আবর্জনা দ্রুত অপসারণের জন্য খরচ হয়। কিন্তু বিধি মোতাবেক কাজটি হয় না। এছাড়া ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা রাস্তার দু’পাশে দীর্ঘদিন ফেলে রাখা হয়। ফলে যানবাহন চলাচলের সময় ধুলা-বালি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার কারণে শীতে ধুলা দূষণের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। ধুলা দূষণে রোগব্যাধি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

বক্তারা বলেন, শুষ্ক মৌসুমে ঢাকা মহানগরীতে ধুলা দূষণের প্রকোপ অত্যন্ত বেড়ে যায়। এই মৌসুমেই হাজার হাজার ইটভাটায় ইট প্রস্তুত ও পোড়ানোর পাশাপাশি মহানগরীতে অপরিকল্পিতভাবে গ্যাস, বিদ্যুত্, পানি, ড্রেনেজ এবং রাস্তাঘাট উন্নয়ন, মেরামত ও সংস্কার কার্যক্রমের আওতায় রাস্তা-ঘাট খোঁড়াখুঁড়ির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। মেট্রোরেলসহ অন্যান্য মেগাপ্রকল্পের জন্য রাস্তা ও আশপাশের বিশাল এলাকা জুড়ে খোঁড়াখুড়ি, গ্যাস-পানি, বিদ্যুতের লাইন স্থাপনের সময় রাস্তা খোঁড়াখুড়ি, মাটি, বালি, ইটসহ নির্মাণসামগ্রী আচ্ছাদনহীন ট্রাকে করে শহরে পরিবহন করা, ড্রেন পরিষ্কার করে রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা, দোকানপাট ও গৃহস্থালীর আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলে রাখা, মেরামতহীন ভাঙ্গাচোরা রাস্তায় যানবাহন চলাচল, পাকা ভবন নির্মাণের সময় মাটি, বালু, ইটসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী রাস্তা-ফুটপাতে ফেলে রাখা, পুরাতন ভবন ভাঙা, মেশিনে ইট ভাঙা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ধোঁয়া ইত্যাদি ধুলা দূষণের অন্যতম উত্স। এসব উত্স থেকে বিপুল পরিমাণ ধুলা বাতাসে মিশে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

মানববন্ধনে পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন নাসফের সাধারণ সম্পাদক মো. তৈয়ব আলী, পবার সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল, সামাজিক আন্দোলন সংস্থার চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির ভূইয়া, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের এ.এন. এম মাসুম বিল্লাহ, পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চের আমির হাসান মামুদ, বাংলাদেশ কৃষক সমিতির মানবেন্দ্র দেব, পুরান ঢাকা নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি মো. নাজিমউদ্দীন, নাসফের সহ-সম্পাদক মো. সেলিম, ক্যামেলিয়া চৌধুরী, মো. ইব্রাহিম হোসেন প্রমুখ।