আসন বণ্টন নিয়ে দ্রুত আলোচনা চায় জাপা

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৫১

আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনার জন্য আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় জাপা চেয়ারম্যানের প্রেস অ্যান্ড পলিটিকাল সেক্রেটারি সুনীল শুভ রায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ চিঠি পৌঁছে দেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর পক্ষে চিঠিটি গ্রহণ করেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

দীর্ঘদিন থেকেই মহাজোটের শরিক দলগুলো জোটের আসন বণ্টনের দাবি জানিয়ে আসছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শুক্রবার বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে মহাজোটের আসন বণ্টন চূড়ান্ত হবে। এরই মধ্যে শনিবার আসন বণ্টনের আলোচনা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিল মহাজোটের অন্যতম শরিক জাপা চেয়ারম্যান। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সময় দেওয়া হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সুনীল শুভ রায় বলেন, ‘মাত্র তো চিঠি দিলাম। আশা করছি খুব দ্রুত জাপা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার জন্য সময় দিবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।’

জানা গেছে, মহাজোটে থেকেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করবে বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপা। প্রতীক ভিন্ন হলেও আওয়ামী লীগ ও জাপা একই আসনে প্রার্থী দেবে না। এটাই সমঝোতা। এমনকি আওয়ামী লীগসহ মহাজোটের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিলে তারা তাত্ক্ষণিকভাবে দল থেকে বহিষ্কার হবেন। সূত্র জানায়, জাপাকে আওয়ামী লীগ কয়টি আসন দেবে সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে প্রতিদিনই জাপার মহাসচিবসহ অন্য নেতারা আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করে আসছেন। ঐক্যফ্রন্ট কোন আসনে কেমন প্রার্থী দেয় সেদিকে আলাদাভাবে নজর রাখছে আওয়ামী লীগ ও শরীক দলগুলো। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহাজোটের শরীক দলগুলোর প্রত্যেক প্রার্থীর সামাজিক অবস্থা, জনগণের গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় নিয়ে যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। জোটের আসন ভাগাভাগির ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে উইনেবল প্রার্থী। যেটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপার সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে জানিয়ে দিয়েছিলেন।

সূত্র জানায়, জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ শারীরিক চেক-আপের জন্য সিএমএইচে ভর্তি হয়েছেন। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা নিয়ে বৃহস্পতিবার রাত থেকে তিনি সিএমএইচে ভর্তি আছেন। হাসপাতাল থেকে ফিরে আসার পর লাঙ্গল মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাত্কার নেওয়া শুরু করবেন এইচএম এরশাদ। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। তখন আসন ভাগাভাগি নিয়েও চূড়ান্ত বৈঠক হবে।

জানা গেছে, প্রথমে তিনশ আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। এটা আগামীকাল সোমবারের মধ্যে শেষ হবে। ইতোমধ্যে রংপুর, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনা বিভাগের একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। খসড়া তালিকা আর সর্বশেষ চার জরিপ রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে এসব প্রার্থী চূড়ান্ত করা হচ্ছে।