তালেবান-আল কায়েদা-আইএসের মিল-অমিল কোথায়

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:৪২

আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের জিহাদি সংগঠনগুলো। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, আফগানিস্তানে তালেবানের জয়ের ফলে মধ্যপ্রাচ্য এবং মধ্য এশিয়ায় জিহাদি মতবাদের এক নতুন যুগের সূচনা হতে পারে।

তালেবান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি করেছে তাতে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে, তারা এমন কোন উগ্রপন্থী সংগঠনকে সহযোগিতা করবে না, যারা পশ্চিমা লক্ষ্যবস্তুর ওপর আক্রমণ চালাতে চায়। কিন্তু আল-কায়েদার সাথে তালেবানের এখনও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে। অন্যদিকে আইএস হচ্ছে আল-কায়েদার প্রতিদন্দ্বী। তালেবান, ইসলামিক স্টেট আর আল-কায়েদা একই উগ্র আদর্শের ভিত্তির ওপর গড়ে ওঠা তিনটি গোষ্ঠী, কিন্তু তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং কার্যপদ্ধতিতে অনেক পার্থক্য রয়েছে। 

Afghanistan crisis: For Al Qaeda, Taliban are role model, democracy a  'deceptive mirage' | World News | Zee News

যুক্তরাষ্ট্রের সুফ্যান সেন্টারের গবেষক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক কলিন ক্লার্ক বলছেন, আল-কায়েদা হচ্ছে এমন একটি জিহাদী গোষ্ঠী যারা জাতীয় সীমানার মধ্যে আবদ্ধ নয়। ইসলামিক স্টেটও তাই। কিন্তু তালেবানের লক্ষ্য আফগানিস্তানকে ঘিরেই। আল-কায়েদা এবং তালেবানের উদ্ভব ঘটে আফগানিস্তানে ১৯৮০-এর দশকের সোভিয়েত অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং তার পরে ১৯৯০-এর দশকের প্রথম দিকে আফগানিস্তানের ভেতরকার অন্তর্দ্বন্দ্বের সময়। 

অন্যদিকে ইসলামিক স্টেটের জন্ম হয়েছিল এর অনেক বছর পরে, ইরাকে আল-কায়েদার (একিউআই) কিছু অবশিষ্টাংশের ভেতর থেকে। একিউআই হচ্ছে আল-কায়েদার একটি স্থানীয় গোষ্ঠী, যার জন্ম ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন অভিযানের প্রতিক্রিয়ায়।

তালেবান, আল-কায়েদা এবং আইএসের একটা অভিন্ন বৈশিষ্ট্য হলো তাদের অনুসৃত সুন্নী ইসলামের একটি কট্টরপন্থী আদর্শ। লন্ডনের কিংস কলেজের শিক্ষক ও ফেলো মিশেল গ্রোপ্পি বলছেন, এই গোষ্ঠীগুলোর সবাই বিশ্বাস করে যে ধর্মীয় জীবন থেকে সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনকে আলাদা করা যায় না।  তিনি বলেন, ‘তারা বিশ্বাস করে যে ধর্মবিশ্বাসের নামে সহিংসতা যুক্তিসংগত, এবং এটি একটি কর্তব্যও বটে। যে যুদ্ধ করে না, সে একজন খারাপ মুসলিম।’ 

তালেবান, আল-কায়েদা এবং আইএস ইসলামের কট্টর ব্যাখ্যা ধারন করলেও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অনুযায়ী উগ্রপন্থার ক্ষেত্রে তাদের মাত্রা ভিন্ন ভিন্ন। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, তিনটি সংগঠনের মধ্যে এটাই বড় পার্থক্য। ১৯৯০-এর দশকে তালেবান যখন প্রথমবার শরীয়া আইন বাস্তবায়ন করে, তখন তাতে নারীদের জন্য কঠোর বিধিবিধান এবং কড়া শাস্তির ব্যবস্থা ছিল।  

How ISIS Is Recruiting Women to Join | Time

ওয়াশিংটনের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য ও সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল বাইম্যান বলছেন, আল-কায়েদা ও আইএসের শিক্ষা আরও বেশি উগ্র। তার মতে, ‘আল-কায়েদা এবং আইএস উভয়েরই যদিও বৈশ্বিক উচ্চাভিলাষ আছে এবং তারা একটি খিলাফত প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে, কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে তাদের মধ্যে অমিল আছে। আইএস চায় খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে হবে এখনই, কিন্তু আল-কায়েদা মনে করে সেই সময় এখনও আসেনি।’ বিবিসি।

ইত্তেফাক/এএইচপি